সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোর অপরাধীদের জেল না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৫, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

কিশোর অপরাধীদের জেল না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে কারাদণ্ড না দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ঘটনার তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একে জঘন্য ও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্টের বিচারক ওই তিন কিশোরকে জেল না দিয়ে সমাজসেবামূলক শাস্তির আওতায় আনার যে রায় দিয়েছেন, তা নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে হ্যাম্পশায়ারের ফোর্ডিংব্রিজে দুই কিশোরীকে পৃথক ঘটনায় ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত কিশোরদের বয়স তখন ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ছিল। গত বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণার সময় বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড জানান, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অহেতুক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। এর পরিবর্তে অভিযুক্তদের ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন অর্ডারের (ওয়াইআরও) আওতায় রাখা হয়, যার মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত কাজ, কারফিউ ও চিকিৎসা গ্রহণের শর্ত।

ভুক্তভোগী কিশোরীদের মধ্যে একজন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই রায়কে নিজের মুখের ওপর পাথরের আঘাতের মতো কঠিন অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন। ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী জানায়, আইনগত দৃষ্টিতে বিচারকদের রায় এমন বার্তা দিচ্ছে যেন তাদের ওপর যা ঘটেছে তা খুব একটা বড় অপরাধ নয়, কারণ অপরাধীরা বয়সে শিশু। অথচ এই ঘটনা তার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি করে দিয়েছে।ঘটনাটি ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে এই সাজা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তার মতে, এমন জঘন্য পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী কিশোরীরা যে সাহস ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। অপরাধীদের প্রতি নমনীয়তা দেখানো হয়েছে কি না, তা এখন আইনি পর্যালোচনার বিষয়।বিচার ব্যবস্থার এমন ত্রুটি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

আইনবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা না করে কেবল বয়সকে প্রাধান্য দেওয়া সমাজে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী বিচার পর্যালোচনার কথা বলছেন, অন্যদিকে বিচারিক রায় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক জিইয়ে আছে। সাজা পর্যালোচনা শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল কী সিদ্ধান্ত নেন, তা এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!