চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরে একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে এখনো অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনাকে একটি বড় দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জিনপিং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
জিনজিয়াং শহরের জিয়াংতৌ গ্রামে অবস্থিত হুইতেং শ্যুজ কারখানায় দুপুর ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বহুতল ভবনটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। ভবনের ছাদে কিছু মানুষকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ১৮০ জনের বেশি দমকলকর্মী এবং ৩৫টি জরুরি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল নাগাদ আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, জুতা তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কারখানার নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চীনের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব এবং দুর্বল তদারকির কারণে শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে চীনে ১৩,৪০০টিরও বেশি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মোট ১২,৮০৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হংকংয়ের একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর বেইজিং সারাদেশে বহুতল ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল। তবে সেই পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে না মানার প্রবণতা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাব এবং জরুরি নির্গমন পথ বন্ধ থাকার মতো অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। উদ্ধার কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
