থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক এলাকায় একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার গভীর রাতে ঘটা এই ঘটনায় আরও ২২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ও নিহতের সংখ্যা সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ জনের মতো বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে অধিকাংশ ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।
বিবিসি নিউজ ও এএফপির তথ্যমতে, ঘটনার সূত্রপাত হয় পানশালাটির মঞ্চের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন জীবন বাঁচাতে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ মৃতদেহ ভবনের শৌচাগারের ভেতরে পাওয়া গেছে, যেখানে তারা ধোঁয়া ও আগুনের হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করছে উদ্ধারকারী দল।
ব্যাংকক বিপর্যয় প্রশমন বিভাগের পরিচালক সুরিয়াজাই রাবিওয়ান প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ট সিত্তিপুন্ত জানিয়েছেন, পানশালাটির ছাদের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে। জরুরি নির্গমন পথটি অবরুদ্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে উপস্থিত একজন সঙ্গীতশিল্পীর বরাত দিয়ে জানান, আগুনের সূত্রপাতের সময় প্রচণ্ড শব্দ শোনা গিয়েছিল। এরপরই সবাই ধোঁয়া ও শিখা থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, নিহতের তালিকায় ৯ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী রয়েছেন। আগুনের সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
থাইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা কঠোরভাবে পালন না করার প্রবণতা পুরনো। এই ঘটনাটি ফের দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সুরিন জাইহার্ন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি নিজ হাতে পাঁচজনকে বের করে আনতে সাহায্য করেছেন। আগুনের শিখা থেকে তাদের শরীরে লেগে থাকা আগুন নেভাতে তিনি কাপড় ব্যবহার করেছিলেন। তিনি জানান, নিজের চোখের সামনে অনেককে মারা যেতে দেখেছেন এবং উদ্ধার করা ব্যক্তিদের ভাগ্য নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
সোমবার সকাল থেকে ওই পানশালাটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খেলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের বাইরে ভাঙা জানালার কাচ ও আসবাবপত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ভবনের ভেতরে ছাদ ও দেয়াল সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্রের কটু গন্ধ এখনো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। সরকার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি রোধে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
