শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কানাডার দাবানল ইস্যুতে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৮, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

কানাডার দাবানল ইস্যুতে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কানাডার দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে কানাডার অবহেলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত বাতাসের আগ্রাসন ঘটছে। তিনি কানাডাকে ইচ্ছাকৃত অবহেলার জন্য দায়ী করেছেন এবং অরণ্য রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।

কানাডীয় ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে আটশো আটাশিটি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্টারিও প্রদেশে প্রায় একশো নব্বইটির বেশি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই ধোঁয়া মিনেসোটা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও এবং নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডের বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার জানিয়েছে, ডিট্রয়েট এবং শিকাগোর মতো শহরগুলোর বাতাস বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বায়ুর তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চারজন আইনপ্রণেতা কানাডীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন যে কানাডার প্রতি তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। তারা কেবল ক্ষমা প্রার্থনা না চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। আইনপ্রণেতাদের মতে, বনাঞ্চল ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি হ্রাস এবং অগ্নি নির্বাপণে কানাডার বিনিয়োগ ও তদারকি অপর্যাপ্ত। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে কানাডা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত পেরিয়ে নিজস্ব উপায়ে অগ্নিনির্বাপণের উদ্যোগ নিতে পারে।

ট্রাম্পের এই অভিযোগ নাকচ করে কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জানিয়েছেন, উভয় দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। ১৯৮২ সালের অগ্নিনির্বাপণ চুক্তি এবং ২০২৫ সালের জি-সেভেন সম্মেলনের সমঝোতার আওতায় দুই দেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, কানাডা বনাঞ্চল রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে প্রায় বারো বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই সংকট কোনো নির্দিষ্ট সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং কানাডা নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, দাবানলের এই পরিস্থিতির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া কোনো সীমানা মানে না এবং বায়ুর গতিপথ অনুযায়ী ধোঁয়া এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কানাডার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম বনাঞ্চলে দাবানল শনাক্ত করা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষজ্ঞরা একমত যে জুন মাসের শেষ দিকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত দাবানলের এই বিস্তৃতিতে ইন্ধন যুগিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী যে উষ্ণ ও শুষ্ক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, তা দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল একটি দেশকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

banner
Link copied!