ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের একশো দুই জন সাবেক কূটনীতিক গত শনিবার ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছেন বলে এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মন্ডে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে এই কূটনীতিকরা উল্লেখ করেছেন যে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলের বর্তমান নীতি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলছে। আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে দুই দেশের সরকারকে অবিলম্বে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে জাতিসংঘের সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমিজ জোন্স প্যারি এবং ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ ওবিন দে লা মেসুজিয়ের ও দেনিস বুশার্ডের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক বাহিনীর মদদে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং বসতি উচ্ছেদকে তারা জাতিগত নির্মূলের সমতুল্য বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের কাছে ইসরায়েল আর প্রকৃত গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না বলেও চিঠিতে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই চিঠির ভাষা কোনো মনগড়া নয়, বরং জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েকমাসে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও হতাহতের ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইসরায়েলের সমস্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে স্থগিত করা এবং যেকোনো ধরনের অস্ত্র স্থানান্তর বা সামরিক সহায়তা নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাবেক কূটনীতিকরা।
ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে এই খোলা চিঠির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইউরোপীয় ভূরাজনীতিতে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে পশ্চিমা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে সরকারের নীতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যা এখনও স্পষ্ট নয় তা হলো প্যারিস ও লন্ডন এই যৌথ নিষেধাজ্ঞার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটছে। বিশ্বজুড়ে সচেতন নাগরিক সমাজ ও কূটনৈতিক মহল বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।
