বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বেসরকারি খাতের প্রবেশাধিকার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বেসরকারি খাতের প্রবেশাধিকার

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন বলে আল জাজিরা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে। সরকারের এই নতুন নীতির ফলে এতদিন সরকারি খাতের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক উৎপাদন খাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করা এবং প্রতিরক্ষা খাতে গবেষণা থেকে দ্রুত ব্যাপক উৎপাদনে রূপান্তর ঘটানো।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে যে প্রযুক্তিগত যোগ্যতা, সনদ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এই উৎপাদন অধিকারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে আত্মনির্ভর ভারত ধারণার ওপর জোর দিয়ে আসছে, যার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমান কৌশলগত উত্তেজনার মুখে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত তার সামরিক মজুত দ্রুত বৃদ্ধি করতে চাইছে। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন। এতদিন ভারত মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠান ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের ওপর নির্ভর করলেও নতুন এই পদক্ষেপে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রতিরক্ষা খাতের এই রূপান্তরের ফলে মহাকাশ ও অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ আরও বেশি সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জুনে ভারত দেশীয় নির্মাতাদের কাছ থেকে সামরিক ড্রোন ক্রয়ের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল, যা বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত প্রসারের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পথে কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ঝুঁকি তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

banner
Link copied!