বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র

মার্কিন বাহিনীর নতুন দফার বিমান হামলার জেরে কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি শিশুসহ চারজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে যে এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পঞ্চাশজনের বেশি মানুষ, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতে নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করেছে।

সংঘাতের এই তীব্র অবনতির প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাকের কালিবফ ওয়াশিংটনের কঠোর সমালোচনা করে তীব্র ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে মার্কিন প্রশাসন ও তাদের মিত্ররা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেনটক জানিয়েছে যে তাদের সামরিক অভিযানগুলো মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সামরিক অবকাঠামো, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সিস্টেম এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করে না, বরং সাম্প্রতিক উস্কানিমূলক তৎপরতার জবাব দিতেই এই সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশকারী একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন সুরক্ষিত অঞ্চলে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। কুয়েত ও বাহরাইনের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ নাগরিকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, তেল পরিবহন এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

banner
Link copied!