বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডে, রেকর্ড ২৫০ দিন পর নোঙর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডে, রেকর্ড ২৫০ দিন পর নোঙর

বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বুধবার প্রায় পাঁচ হাজার ক্রু সদস্য নিয়ে থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ার উপকূলে নোঙর করেছে মার্কিন পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ আড়াই শ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে কোনো বন্দর বিরতি ছাড়াই একটানা দায়িত্ব পালনের পর উম্মাহকণ্ঠ ডট কম-এর পাঠকদের জন্য এটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো বন্দর ত্যাগ করে প্যাসিফিক ও দক্ষিণ চীন সাগরে ছয় মাসের নির্ধারিত মিশনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই যুদ্ধজাহাজটির। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করা হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের কঠোর চাপ এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে ক্রু সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ ও নানা ধরনের কষ্টের খবর সামনে এলেও মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে যে পর্যাপ্ত সহায়তার মাধ্যমেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পাতায়া বন্দরে পৌঁছানোর পর হাজার হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনা শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন, যা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ইরানের সঙ্গে চলা সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় থাইল্যান্ডের এই উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি ছিলেন। বিগত কয়েক দশক আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সৈন্যদের ছুটির কাটানোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পাতায়া বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিল এবং বর্তমান এই ভিজিট সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকেই ফিরিয়ে এনেছে। তবে অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে থাই কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন সামরিক কমান্ড যৌথভাবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে অতিথিরা আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ছুটি উপভোগ করতে পারেন।

মার্কিন নৌবাহিনীর এটাচি ক্রিস্টোফার রবিনসন জানিয়েছেন যে মার্কিন সেনারা তাদের নিজস্ব নৌ বিধিমালা এবং থাইল্যান্ডের স্থানীয় আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকেই এই অবকাশ যাপন সম্পন্ন করবেন। থাই কর্তৃপক্ষ শহরের বিনোদন অঞ্চলগুলোতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করেছে যাতে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারেন এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারেন। বর্তমান এই সময়টিতে পাতায়ার অলিগলিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত অনেক পরিবারকেও ঘুরতে দেখা যাচ্ছে যারা প্রধানত তুর্কি আইসক্রিম বা পারিবারিক বিনোদনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। তবে স্থানীয় মেয়র স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমান পাতায়া কেবল বার গার্ল বা রাতের বিনোদনের জন্য নয়, বরং খেলাধুলা, সেমিনার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার এক অনন্য মিশ্রণে পরিণত হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী ছয় সেপ্টেম্বর এই রণতরীটি পুনরায় প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে নিজেদের ঘাঁটির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে।

banner
Link copied!