তাইজের পশ্চিম দিকের কৌশলগত জাবাল হান এলাকা লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের চালানো একটি জোরালো আক্রমণ প্রতিহত করেছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। সরকারি বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তাইজ সামরিক অক্ষের নৈতিক নির্দেশনা বিভাগের উপপ্রধান কর্নেল আব্দুল বাসেত আল-বাহর জানান, দীর্ঘক্ষণ তীব্র সংঘর্ষ ও ভয়াবহ লড়াইয়ের পর সরকারি সেনারা এই হামলা ভণ্ডুল করে দেয়।
ওই সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রমণকারী বিদ্রোহীরা শেল ও ভারী আর্টিলারির অবিরাম গোলাবর্ষণ করে জাবাল হান, পুরো পশ্চিমের রণক্ষেত্র এবং আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তবে এই সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেয়নি সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমটির এই প্রতিবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হুথি আন্দোলন।
আল-জুমহুরিয়া চ্যানেল জানিয়েছে, তাইজ গভর্নরেটের জাবাল হাবাশি জেলার বানি বক্কারি এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব বিমান হামলায় হুথি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন বেশ কিছু যোগাযোগ নেটওয়ার্ক টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে।
অঞ্চলটির সামরিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জাবাল হান অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। উচু এই ভূখণ্ডটি আল-দাবাব সড়কের ওপর নজরদারি চালায়, যা তাইজের সঙ্গে লাহিয গভর্নরেট এবং দক্ষিণের অন্তর্বর্তী রাজধানী আদেনকে সংযোগকারী একমাত্র জীবনরেখা।
মানবাধিকার ও মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হুথি বিদ্রোহীরা তাইজ গভর্নরেটের ভেতরে সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে রেখেছে। ২০১৫ সাল থেকে তারা তাইজ শহর কঠোর অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ বহরের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও হুথি পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ফজর আল-ইয়েমেন বা ইয়েমেনের ভোর নামের সামরিক অভিযানের পর নতুন করে এই সংঘর্ষ শুরু হলো। রাজধানী সানাসহ হুথিদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুতে এই আক্রমণ শুরু করে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
সরকারি বাহিনীর এই চলমান অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট ও কৌশলগত উচু ভূমিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষের লড়াইয়ের কারণে তাইজসহ বিভিন্ন প্রান্তে শত্রুতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
১৪ সাল থেকে তীব্র সংঘাতে জর্জরিত রয়েছে ইয়েমেন। ওই বছর হুথি আন্দোলন রাজধানী সানা দখল করে নিলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা রাজধানী ছাড়তে বাধ্য হন। এর পরের বছর সরকারকে পুনর্বহাল করতে সামরিক হস্তক্ষেপে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
