জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের কুমামোহতো অঞ্চলে মঙ্গলবার বিকেলে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত তেরো জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মৃদু বা মাঝারি সংশোধনের পর ভূকম্পনটির মাত্রা ছিল ছয় দশমিক আট এবং জাপানের নিজস্ব তীব্রতার মাপে এটি সর্বোচ্চ সাত পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দমকলকর্মী, পুলিশ এবং চার হাজারের বেশি সেনা সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেছেন যে বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সময়ের সঙ্গে এক তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে যতো দ্রুত সম্ভব আটকে থাকা প্রতিটি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে।
কুমামোহতোর কাশিমা শহরে অবস্থিত একটি বড় শপিং মল এবং ইয়াৎসশিরো এলাকার একটি কাগজ কারখানায় সবচেয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ওই শপিং মলের একটি অংশ ধসে পড়ার পর সেখানে একটি আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালিয়ে আংশিক ধসে পড়া ভবনটি থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে অঞ্চলটির মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। শিঙ্কানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে পরবর্তী ধাক্কা বা পরাঘাত এবং সম্ভাব্য ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
