বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

দাবানল মোকাবিলায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানাল ইইউ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

দাবানল মোকাবিলায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানাল ইইউ

ইউরোপের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলোতে ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তা। ফ্রান্স এবং স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দাবানল ভয়াবহ রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে ইইউর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে। রয়টার্স এবং আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ যে আসন্ন তীব্র তাপপ্রবাহ এবং নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা কমিশনার হাদজা লাবিব রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বিজ্ঞানীদের পূর্বের যেকোনো ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ইইউর জলবায়ু কৌশলকে মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দাবানলের ঝুঁকি এড়াতে কেবল ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং আগে থেকেই পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।

চলতি গ্রীষ্মে ফ্রান্স এবং স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে যে মাত্রায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে ব Bordeaux অঞ্চলের আশপাশে এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের নিকটবর্তী এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে বিশেষ বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে চরম আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল দাবানলের হটস্পটে পরিণত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে কেবল অগ্নিকাংশ নেভানোর সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং মূল কারণ অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে এই নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে যখন পরিবেশবাদীরা দ্রুত কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অজুহাতে কেউ কেউ দীর্ঘসূত্রতার পথ বেছে নিচ্ছেন। এই নীতিগত দ্বন্দ্বের কারণে জলবায়ু সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

হাদজা লাবিব তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইউরোপীয় কমিশন কেবল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছার সীমার মধ্যেই কাজ করতে পারে। রাষ্ট্রগুলো যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয়, তবে তার খেসারত দিতে হবে পুরো পৃথিবীকে। বিশেষ করে বনভূমি রক্ষা এবং বন্যাকবলিত বা দাবানলপ্রবণ অঞ্চলের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য বাজেট বাড়ানোর বিকল্প নেই। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নতুন কোনো তাপপ্রবাহ শুরু হলে দাবানল আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আবহাওয়া অফিসগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য আগামী দিনগুলো এক বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি কেবল ইউরোপের ভৌগোলিক সীমানাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফ্রান্স ও স্পেনের এই সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে এক অশনি সংকেত নিয়ে হাজির হয়েছে। ইইউর শীর্ষ মহলের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কতটা জাগ্রত করতে পারে এবং নীতিনির্ধারকরা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহামারী বা পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে কেমন রূপরেখা তৈরি করেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

banner
Link copied!