বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৬৫, নিখোঁজ সহস্রাধিক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৬৫, নিখোঁজ সহস্রাধিক

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এবং বিবিসি নিউজের তথ্যমতে, বুধবার নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে এক ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। হিমালয় সংলগ্ন পাহাড়ি উপত্যকায় নেমে আসা ঢলের তীব্রতায় ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি, সেতু ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিপর্যয় কবলিত এলাকায় দেড় হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও স্থানীয় নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকার একটি উচ্চ পাহাড়ি হিমবাহের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলোতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তল্লাশির কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চীন ও নেপালের সীমান্তবর্তী গিরোং বন্দর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে সিনহুয়া বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ভিতে কোশী ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় পানির প্রবল স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ভারতের শতাধিক নাগরিকসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার বহু পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ পর্যটকদের স্বজনরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দুর্যোগে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার হার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল ও হিমবাহ ধসের ঝুঁকি অতীতে যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়েছে। পাহাড়ি নদীগুলোর গতিপথে পলি ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

হতাহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করতে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে নেপাল সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকর্মীদের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

banner
Link copied!