বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত একশো সাতাত্তর জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ও বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। হিমালয় সংলগ্ন পাহাড়ি উপত্যকায় নেমে আসা ঢলের তীব্রতায় ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিপর্যয় কবলিত এলাকায় আটশোর অধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে যে সীমান্ত এলাকার একটি উচ্চ পাহাড়ি হিমবাহের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে। ডক্টর সাইমন কুক নামের একজন হিমবাহ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে ল্যাংটাং লিরুং শিখরের নিকটবর্তী একটি হিমবাহের নিম্ন অংশ ধসে পড়েছিল। এই ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক দুই মাত্রার কম্পন হিসেবে ধরা পড়েছিল। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলোতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তল্লাশির কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা কেন্দ্র আইসিআইএমওডি জানিয়েছে যে উচ্চ পাহাড়ি এলাকা থেকে তুষার ও পাথরের একটি বিশাল পতন ঘটেছিল। এই বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ লেন্দে খোলা নদীতে প্রবেশ করে, যা পরবর্তীতে ভোতে কোশী নদীর পানি প্রবাহকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে নদীর পানি সাত থেকে নয় মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং বেশ কিছু জল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইক সার্ল বলেছেন যে এই বিপর্যয়ের পেছনে টেকটনিক প্লেটের দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ ভূমিকা রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালগুলো সময়ের সাথে সাথে আরও খাড়া হয়ে উঠছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বরফ গলে যাওয়ার হার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল ও হিমবাহ ধসের ঝুঁকি অতীতে যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
