শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যার কবলে নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৫৪৭, নিখোঁজ হাজারো

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

বন্যার কবলে  নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৫৪৭, নিখোঁজ হাজারো

বিবিসি নিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, গত বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৫৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিমালয় অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে সীমান্তবর্তী বহু গ্রাম ও লোকালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আটকে পড়া স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের উদ্ধারে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় পনেরো হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বারবার ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৫৪৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত তিন হাজার সাতশোর বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে একশোর বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে এখনও প্রায় নয়শো সাতাত্তর জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্গম আবহাওয়া ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে ভূমিধস হওয়ায় উদ্ধারকাজ চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ত্রিশূলি নদীর পার্শ্ববর্তী একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার পাশাপাশি চিতওয়ান জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হেলিকপ্টারই এখন বেঁচে থাকা মানুষদের উদ্ধারের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বত অংশে এই বন্যায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দুইশো ষাট জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় পাঁচশো আটান্ন জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতের ঘিরং বাণিজ্য কেন্দ্রটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার দুই দিন পর সেখানে একটি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলে চীনের গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। ভূমিধসের ফলে পানি প্রবাহ আটকে গিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল, যার পানি উপচে পড়ে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। শুক্রবার চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ওই হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা পুনরায় একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উদ্ধারকাজ সমন্বয়ের জন্য চীনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উঁচু পর্বতমালা থেকে বরফ ও পাথরের এক বিশাল খণ্ড খসে পড়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়। এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ লহেন্দে খোলা এবং ভোতে কোশি নদীর পানিবাহিত হয়ে ভাটির দিকের লোকালয়গুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নেপালের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, তিব্বতের দিক থেকে ধেয়ে আসা এই পানির তীব্র স্রোত রসুয়া জেলার তিমুরে এবং সংলগ্ন স্যাফ্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, বিশাল মাত্রার ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। পানির প্রচণ্ড তোড় এবং পাথর ও কাদামাটির স্রোত মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য সড়ক, সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অসংখ্য নাগরিক রয়েছেন যারা মূলত কৈলাস পর্বত দর্শনের উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রায় বের হয়েছিলেন। নিখোঁজদের তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নাগরিকরাও রয়েছেন। ভারত সরকার ইতোমধ্যে তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে এবং আরও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুসন্ধান দল, চিকিৎসকদের একটি দল এবং জরুরি সেতু পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার এই বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

banner
Link copied!