ইয়ান জেনিংস নামে ১০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোর ২০টি জটিল অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদী এই স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়মিত পাঁচ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হচ্ছে। বিবিসি ওয়েলসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরটির অ্যালার্জি এতটাই জটিল ও সংবেদনশীল যে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তার সমাধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতির কারণে তার পরিবার তাকে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিয়ে গিয়ে বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় ভর্তি করেছে।
গত ১৮ মাস ধরে ইয়ান এবং তার পরিবার প্রতি ১২ সপ্তাহ অন্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ভ্রমণ করছে। ইয়ানের মা কেটি হাট জানান, এক সময় তাদের বাসায় বাদাম রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু এই চিকিৎসার ফলে সে এখন প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে বাদাম খেতে পারছে। এই বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির পেছনে প্রতি বছর তাদের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড। তাদের লক্ষ্য হলো ইয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ওঠার আগেই যেন সে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
জন্মের সময় থেকেই ইয়ান একজিমা ও বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জিতে ভুগছিল। ছয় মাস বয়সে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে সে দুধ, ডিম ও চিনাবাদামে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। এখন সে সামুদ্রিক মাছ, নারকেল, বিড়াল, কুকুর, ঘোড়া, পরাগরেণু এবং বিভিন্ন ধরনের ডালসহ অন্তত ২০টি উপাদানের সংস্পর্শে এলে অ্যানাফিল্যাক্সিস বা মারাত্মক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়। এই অবস্থায় তাকে ঘর থেকে বের হওয়া বা জানালা খুলে রাখা নিয়েও সতর্ক থাকতে হয়।
ইয়ানের মা জানিয়েছেন যে তিন বছর বয়সেই ওয়েলসে তাদের সব চিকিৎসার বিকল্প শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে ইয়ানের শারীরিক অবস্থা খুবই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। ইয়ানের চিকিৎসার জন্য চার বছর সময়সীমার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতি ১২ সপ্তাহ অন্তর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার মাত্রা সমন্বয় করছেন এবং ইয়ান প্রতিদিন ক্ষুদ্র পরিমাণে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী প্রোটিন গ্রহণ করছে যাতে তার শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারে।
এই দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য ইয়ানকে অনেক সময় স্কুল কামাই করতে হচ্ছে। তার মা ও বাবা নিজেই তাকে ও তার বোন মাইকে বাড়িতে পড়ালেখায় সহায়তা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অ্যালার্জি চিকিৎসার সুযোগ ও দক্ষতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। যদিও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু সহায়তা পাওয়া যায়, তবে ইয়ানের মতো জটিল রোগীদের জন্য বিদেশে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। ইয়ানের পরিবার আশা করছে, এই ধারাবাহিক চিকিৎসা তাকে ভবিষ্যতে অ্যালার্জিমুক্ত জীবন উপহার দেবে।
