মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪ মিলিয়ন মানুষ কর্মহীন: অনিশ্চয়তায় ডুবছে তেহরানের জীবন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

৪ মিলিয়ন মানুষ কর্মহীন: অনিশ্চয়তায় ডুবছে তেহরানের জীবন

তেহরানের বিষণ্ণ জনজীবন I Ai ছবি

তেহরানের সানাই গজনভি স্ট্রিটের দৃশ্য এখন আর আগের মতো নেই। মুদি দোকান, ঘরের আসবাবপত্রের দোকান আর ফাস্ট ফুডের ভিড়ে সেখানে এখন কেবলই বেঁচে থাকার ক্লান্তি। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেট সরাসরি তেহরান থেকে জানিয়েছেন যে, ইরানিদের জীবন এখন এমন এক অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। 

দীর্ঘদিনের সংকট আর মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ এখন কেবল দিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি এবং অনিশ্চিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ জমছে।

তেহরানের একটি জুতার দোকানের মালিক মুস্তফা এবং তার ২৭ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদের গল্পটি এই সংকটের একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। গত ৪০ বছর ধরে তাদের পরিবার এই ব্যবসা পরিচালনা করলেও এখন আর আগের মতো ক্রেতা নেই। মোহাম্মদ জানিয়েছেন যে, তার অনেক পরিচিত মানুষ ইতিমধ্যে কাজ হারিয়েছেন।

 আসর-এ ইরান নামক একটি ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধ এবং ইন্টারনেটের প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউটের ফলে দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখ বা চার মিলিয়ন মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দোকানে থাকা নামী ব্র্যান্ডের জুতাগুলো আসলে চিনে তৈরি নকল পণ্য, কারণ ইরানে আসল ব্র্যান্ডের পণ্য আমদানি করা এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

তেহরানের মধ্যবিত্ত এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। শাহলা নামে এক বৃদ্ধা জানিয়েছেন যে, বাজারে এক প্যাকেট রুটির দাম আগের চেয়ে তিন গুণ বেড়ে গেছে। 

স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য বর্তমান জীবন যেন এক জীবন্ত জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে আলোচনার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজারদর। কেউ কেউ এমনকি যুদ্ধের ফিরে আসাকেই শ্রেয় মনে করছেন এই আশায় যে, যুদ্ধের পর হয়তো অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে। ট্রাম্পের হুমকির মুখে আলোচনায় ভালো কিছু আসবে কি না, তা নিয়ে তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর সংশয় ও বিরক্তি কাজ করছে।

banner
Link copied!