বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হিল্লা বিয়ে কবিরা গুনাহ: কঠোর হুঁশিয়ারি মিজানুর রহমান আজহারীর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১১, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

হিল্লা বিয়ে কবিরা গুনাহ: কঠোর হুঁশিয়ারি মিজানুর রহমান আজহারীর

ছবি : সংগৃহীত

জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী হিল্লা বিয়ের নামে প্রচলিত সাজানো বা পাতানো বিয়েকে কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সমাজের একাংশে প্রচলিত এই প্রথাকে শরিয়তবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মুসলিমদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি পবিত্র হাদিসের আলোকে এই বিধানের অপব্যবহারের বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

আজহারী তার পোস্টে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস তুলে ধরেন। নবীজি (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদের ভাড়াটে পাঁঠা সম্পর্কে অবহিত করব না? সাহাবিরা জিজ্ঞাস করলেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন, সে হলো তাহলীলকারী। আল্লাহ তাহলীলকারী এবং যার জন্য তাহলীল করা হয়, তাদের উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন (সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৯৩৬)। ইসলামি শরিয়তে তাহলীল বা হিল্লা বলতে এমন বিয়েকে বোঝায়, যা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কেবল প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রীকে পুনরায় হালাল করার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা হয়।

শরিয়তের প্রতিটি বিধান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজহারীর মতে, শরিয়তের কোনো বিধানকে অপব্যবহার করা বা কৌশলে তা অতিক্রম করার চেষ্টা করা কোনো সচেতন মুসলিমের কাজ হতে পারে না। তালাকের পর পুনরায় মিলনের ক্ষেত্রে ইসলাম যে পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে, তা অত্যন্ত সম্মানজনক ও স্বচ্ছ। কিন্তু হিল্লা বিয়ের নামে যে পাতানো ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে, তা বিবাহের পবিত্রতা ও শরিয়তের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নারী ও পুরুষকে পুনরায় বিবাহের অধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই শরিয়তে তালাক ও ইদ্দতের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বিচ্ছেদের পর পুনরায় মিলনের জন্য যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তিকে ভাড়া করে বা সাজানো বিয়ের মাধ্যমে সেই পথ তৈরি করা হয়, তবে তা গুনাহের কাজ। এ ধরনের কাজ কেবল শরিয়তের অপব্যাখ্যা নয়, বরং তা পরিবার প্রথা ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতাকে চরমভাবে হেয় করে।

আজহারী মুসলিম উম্মাহকে শরিয়তের বিধানের সঠিক অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অজ্ঞতা বা কুপ্রথার প্রভাবে সমাজে যে ধরনের ভুল চর্চা গড়ে উঠেছে, তা থেকে উত্তরণের উপায় হলো কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করা। শরিয়তকে ব্যক্তিগত সুবিধা বা কৌশলের জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ঈমানি দায়িত্ব। সমাজ থেকে এই কুপ্রথা দূর করতে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা প্রচারের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

banner
Link copied!