মুসলিম উম্মাহ যখন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার অপেক্ষায়, তখন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বইছে নিদারুণ বিষণ্ণতার হাওয়া। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলা, দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ আর বাস্তুচ্যুতির ক্ষত নিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো কোরবানিহীন এক নিস্তেজ ঈদের সামনে দাঁড়িয়ে গাজাবাসী। যে জনপদে একসময় কোরবানির পশুর হাঁকডাক শোনা যেত, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।গাজার প্রতিটি কোণে এখন কেবল ধ্বংসের ছাপ।
গাজা সিটির মাজেন আল-জেরজাভি একসময় এই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ গবাদিপশু খামারি ছিলেন। ঈদের দিনগুলোতে তার ব্যস্ততার শেষ থাকত না; নিজের খামার থেকে বিক্রি করতেন শত শত গরু ও ভেড়া। তবে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা সেই সমৃদ্ধি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। মাজেন বর্তমানে একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, আগে প্রতি মৌসুমে ২০০টি পশু বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন তার গোয়াল সম্পূর্ণ শূন্য। গাজায় বর্তমানে জীবিত কোনো পশু প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তার অভিযোগ।
গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এই অঞ্চলের পশুপালন খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। যুদ্ধের আগে গাজায় প্রায় ৬০ হাজার ভেড়া-ছাগল ছিল, যা বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৩ হাজারের মতো। পশুর এই চরম সংকটে সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক বাইরে চলে গেছে ঈদের বাজার। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে কেনা যেত, তার দাম এখন ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
একটি পশুর পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করার চেয়ে একটি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখা এখন গাজাবাসীর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঈদ উদযাপনের আনন্দ নেই, নেই উৎসবের আমেজ। ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াইয়ে ঈদের চিরায়ত রূপটি গাজা থেকে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।
