হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনসমাগম ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে সৌদি ডেটা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি সম্মানজনক কাসিম অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স অ্যান্ড ক্রিয়েটিভিটি অর্জন করেছে বলে শনিবার দেশটির সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব বিভাগে পাওয়া এই অনন্য সম্মাননা সৌদি আরবের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা এবং বৈস্মিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দেশটির সুদৃঢ় নেতৃত্বের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাসিম গভর্নরেটের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে কাসিম অঞ্চলের গভর্নর ও যুবরাজ ডক্টর ফয়সাল বিন মিশাল বিন সৌদ বিন আব্দুল আজিজ এই পুরস্কার তুলে দেন। ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই জাতীয় সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
পুরস্কারটি এসডিএআইএ-এর ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডক্টর সাত্তাম আল-সুবাইয়ের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হজের মৌসুমে লাখো হাজির গতিবিধি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য যেকোনো ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে আসা লাখ লাখ মুসলিম উম্মাহর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আধুনিক এআই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল রূপান্তর হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলেছে।
এসডিএআইএ-এর গবেষক দল এই বিশেষ প্রকল্পে ভেলোসিটিনেট এবং অ্যাটেনশন ইনভার্স-এর মতো অত্যাধুনিক ও যুগান্তকারী গাণিতিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এসব প্রযুক্তি ভিড়ের চলাচল নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভিড়ের অস্বাভাবিক আচরণ বা যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির আগাম সংকেত দিতে সক্ষম। যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আগামী দিনে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের সম্পূর্ণ ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কতটা মানবহীন করে তুলবে। তবে এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহার দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, সাধারণ জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার কার্যকারিতা উন্নত করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অত্যন্ত জোরালো এবং এটি বৈশ্বিক বিজ্ঞান মহলে সমাদৃত হয়েছে। এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ফলাফল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আইসিসিভি, আইসিএমএল এবং অ্যারাবিকএনএলপি-তে সফলভাবে উপস্থাপিত ও প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি গবেষকরা নতুন মানসম্পন্ন ডেটাবেসও তৈরি করেছেন, যা ভবিষ্যতে জনসমাগম বিশ্লেষণভিত্তিক গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও নিরাপদ হজ ব্যবস্থাপনা গড়ার লক্ষ্যে সৌদি আরব যে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও সম্মাননা তারই একটি উজ্জ্বল প্রমাণ বহন করে।
