শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিলিস্তিনিদের পাশে ব্রিটিশ চার্চ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিলিস্তিনিদের পাশে ব্রিটিশ চার্চ

চার্চ অব ইংল্যান্ডের জাতীয় পার্লামেন্ট জেনারেল সিনড তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস করেছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই সিনড অধিবেশনে দীর্ঘ বিতর্কের পর সোমবার সকালে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি গির্জাগুলোর প্রকাশিত বিশেষ দলিলপত্র পর্যালোচনা করা এবং সেখানকার নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। চার্চের এই নতুন অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রক্ষণশীল মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনি গির্জাগুলোর প্রকাশিত কায়রোস প্যালেস্টাইন দলিলের অভিজ্ঞতা শোনার এবং সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের অহিংস প্রতিরোধের প্রতি চার্চের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। চার্চ অব ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার আন্তঃধর্মীয় সংলাপের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তবে ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করায় প্রস্তাবটি নিয়ে ইহুদি ও ব্রিটিশ ধর্মীয় মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কায়রোস প্যালেস্টাইন নামের মূল দলিলটি ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে কায়রোস প্যালেস্টাইন দুই নামে একটি নতুন দলিল প্রকাশ করা হয়, যা গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি। এই নথিতে ইসরায়েলকে একটি ঔপনিবেশিক ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে যা আদিবাসীদের বাস্তুচ্যুত করছে। নথির এই শক্ত ভাষা ও ইসরায়েলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কারণে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ব্রিটেনের প্রধান রাব্বি এফ্রাইম মিরভিস এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে এটি একটি মিথ্যাপূর্ণ দলিল যা সংলাপে বাধা দেয়। অন্যদিকে রেগান কিং নামের এক যাজকের নেতৃত্বে ১,৮৭৭ জন খ্রিস্টান একটি যৌথ বিবৃতিতে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি এই দলিল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট করবে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ধরনের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ চার্চের ফিলিস্তিন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদে কতটা ফাটল ধরাবে।

অধিবেশনে বিতর্কের সময় এই সমালোচনার जवाब দিয়েছেন ওয়েস্ট কম্বারল্যান্ডের আর্চডিকন ভেন স্টুয়ার্ট ফাইফ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে দলিলের ভাষা কিছুটা কঠিন মনে হলেও এটি গভীর মানসিক আঘাত ও ট্রমা থেকে তৈরি হয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন করেন যে অন্য কোনো পরিস্থিতিতে মানসিক আঘাতের শিকার কোনো ব্যক্তিকে কি বলা হতো যে তাদের ভাষা ভুল বা মিথ্যা। চার্চের এই সংহতি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের উচ্চতর প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটি।

ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ সারাহ মুলালি সিনডকে বলেছেন যে ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতা শোনার অর্থ এই নয় যে চার্চ তাদের সব কথার সাথে একমত হয়েছে। তিনি মনে করেন পবিত্র ভূমির বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই জরুরি যে সেখানে কঠিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তিনি গাজার ধ্বংসস্তূপ এবং পশ্চিম তー নিপীড়ন থেকে ভেসে আসা ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের আর্তনাদ শোনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। চার্চের এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সমাজে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৩,২৫০ জন নিহত এবং ১৭৩,৭৫১ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ commission ও গত বছর ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজায় জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে। চার্চের এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে কারণ তাদের বেশ কিছু বিশপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে সরাসরি দায়িত্ব পালন করছেন।

banner
Link copied!