শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সেশেলসের পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক: মোদির বিদেশি সম্মাননা ও সমালোচনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

সেশেলসের পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক: মোদির বিদেশি সম্মাননা ও সমালোচনা

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সেশেলস সফরকালে প্রাপ্ত একটি নতুন পুরস্কার ও সেই সংক্রান্ত সনদে বানান ভুলের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২৭ থেকে ২৯ জুন সফরকালে তাকে গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন নামক একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তবে এই সম্মাননা পত্রটিতে সেশেলস ও রিপাবলিক—এই শব্দ দুটিতে বানান ভুলের কারণে এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমালোচকরা বিষয়টিকে এক তাড়াহুড়ো করে করা কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যা কূটনৈতিক পর্যায়ে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সেশেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ইন্টারনেটে যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে তা ছিল একটি খসড়া কপি, মূল সনদপত্র নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, এই পুরস্কারটি সম্পূর্ণ বৈধ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির বিদেশ সফরের সময় প্রাপ্ত বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরির একটি অংশ হিসেবে কাজ করে। গত ১২ বছরে মোদি বিদেশ সফরের সময় ৩০টিরও বেশি পুরস্কার বা সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অনেক পুরস্কারই তার সফরকে কেন্দ্র করে বিশেষ বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছে।

ওয়েস্টমিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক নিতাশা কাউল এই বিষয়ে আল জাজিরাকে জানান, এই পুরস্কারগুলো ভারতের কূটনীতির চেয়ে মোদির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরির ক্ষেত্রেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, বিদেশি অনেক দেশ ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার খাতিরেই মোদিকে এমন বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার প্রয়াস পায়। বিশেষ করে সেশেলসের ঘটনাটি মোদির ভাবমূর্তি তৈরির প্রচেষ্টারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সম্মান পাওয়ার বদলে অনেক সময় হাস্যরসের খোরাক জোগায়।

মোদি এর আগে ইন্দোনেশিয়া, স্লোভাকিয়া ও ইসরায়েলসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিভিন্ন বেসামরিক সম্মাননা পেয়েছেন। স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডাবল ক্রস, ফার্স্ট ক্লাস গ্রহণ করার বিষয়টিও বেশ আলোচিত হয়েছিল। ইসরায়েলে ভ্রমণের সময় তাকে নেসেট পদক দেওয়া হয়। গিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ান হলের মতে, যদিও নয়া দিল্লি দাবি করে যে এই পুরস্কারগুলো ভারতের বিশ্বমঞ্চে সম্মান বাড়ানোর বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু বাস্তবে এর কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুফল কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কিছু সমালোচকের মতে, এই পুরস্কারগুলো মোদির অহমিকা ও শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি নির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা মনে করেন, এই ধরনের মিথ তৈরি করার প্রচেষ্টা প্রকৃত কূটনৈতিক রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ভারত সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, এই সম্মাননাগুলো একক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং পুরো ভারতের জাতির প্রতি বিশ্বের সম্মানের নিদর্শন। কূটনীতিকদের একটি অংশ অবশ্য মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বিভিন্ন দেশ ভারতের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করতে এই ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার প্রদর্শন করে থাকে। মোদির এই পুরস্কার গ্রহণ ও তা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও ভারত ও তার প্রতিবেশী বা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

banner
Link copied!