বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইয়েমেনে হুথি বিরোধী মিলিশিয়া কর্তৃক অস্ত্রবাহী নৌকা জব্দ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

ইয়েমেনে হুথি বিরোধী মিলিশিয়া কর্তৃক অস্ত্রবাহী নৌকা জব্দ

ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথি বিদ্রোহীদের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামবাহী একটি নৌকা জব্দ করেছে সরকার সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী। মঙ্গলবার ইয়েমেনি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। মিলিশিয়া বাহিনী জানিয়েছে, নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক নৌকাটি আটক করা হয়।

ইয়েমেনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আটক নৌকায় এমন কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে যা হুথিরা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করে থাকে। বাব আল-মান্দেব প্রণালীটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই জলপথে যেকোনো ধরনের অস্ত্র চোরাচালান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আটক নৌকার নাবিকদের বর্তমানে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জব্দকৃত সরঞ্জামগুলো বিশ্লেষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। হুথি বিদ্রোহীরা অতীতেও এই পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার সমর্থিত এই মিলিশিয়া বাহিনীর দাবি, অস্ত্র সরবরাহের এই রুটটি বন্ধ করা গেলে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

ইয়েমেনের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা লোহিত সাগরের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। হুথিরা দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের মদদপুষ্ট এই গোষ্ঠীটি প্রায়ই আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। জব্দকৃত সরঞ্জামগুলো কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এসেছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সরকার সমর্থিত বাহিনীর এই সফল অভিযানে লোহিত সাগরের বাণিজ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও উত্তেজনা কমেনি। ইয়েমেন সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান এই সংঘাত দীর্ঘদিনের। একদিকে সৌদি আরব সমর্থিত জোট এবং অন্যদিকে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে এই ধরনের অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চাপের মুখে রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ইয়েমেনের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, লোহিত সাগরে সংঘাতের তীব্রতা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হুথিরা তাদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহার করছে। তবে সরকার সমর্থিত বাহিনীর সাম্প্রতিক এই অভিযান চোরাচালানকারীদের জন্য একটি শক্ত বার্তা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটককৃতদের পরিচয় এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে জানানো হবে কি না, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।

banner
Link copied!