আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করতে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ধরে রাখতে জাপানকে জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আদালতের সভাপতি তোমোকো আকানে, রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে। টোকিওতে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাথে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, আদালতের প্রধান আর্থিক দাতা হিসেবে জাপানের এই সংকটে পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ওয়াশিংটন প্রশাসন সম্প্রতি আইসিসির সভাপতি তোমোকো আকানে এবং একজন জ্যেষ্ঠ বিচারীয় আইনজীবীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে নিজেদের কূটনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে জাপান। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তিনি নিজেও জাপানের কাছ থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সহায়তার প্রত্যাশা করছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন প্রচারণার মুখে যাতে পার্শ্ববর্তী কোনো সদস্য রাষ্ট্র আতঙ্কিত হয়ে আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে না নেয়, সে বিষয়ে টোকিওকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মার্কিন প্রশাসনের হেগভিত্তিক এই আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা এবং নানা ধরনের কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ আদালত থেকে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি মার্কিন এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বলে অভিহিত করলেও, বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আদালতের সাথে সংহতি প্রকাশ না করার অভিযোগে দেশের ভেতরেই বর্তমান সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুই হাজার সাত সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যপদ লাভ করা জাপানের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক পরীক্ষার সময় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের উদ্দেশ্যে দুই হাজার দুই সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালতের সদস্য নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ এবং অতীতে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও আদালতের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। তোমোকো আকানে আরও বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এই ধরনের বৈরিতা হ্রাসে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আদালতের ভবিষ্যৎ টিকে থাকার ক্ষেত্রে জাপানের এই অবস্থান অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে আইসিসি প্রধান সতর্ক করে দিয়েছেন। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা বজায় রাখতে এই কূটনৈতিক সংকট নিরসনে টোকিও শেষ পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
