বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী মার্কিন করপোরেট জায়ান্টরা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী মার্কিন করপোরেট জায়ান্টরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চলতি সপ্তাহের বেইজিং সফরে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের এক বিশাল প্রতিনিধি দল। বিবিসি জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন ১৭ জন প্রভাবশালী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার মধ্যেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অ্যাপলের সিইও টিম কুক, টেসলা ও স্পেস-এক্সের প্রধান ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক। এছাড়াও মেটা, ভিসা, জেপি মরগান, বোয়িং এবং কারগিলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা এই সফরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই বৈঠক এমন এক সময়ে ঘটছে যখন সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে।

তবে সফরের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং। প্রাথমিক তালিকায় তার নাম না থাকলেও, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে এয়ার ফোর্স ওয়ান যখন জ্বালানি নেওয়ার জন্য অবতরণ করে, তখন তাকে বিমানে উঠতে দেখা যায়। এনভিডিয়ার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করতে তিনি এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার চিপ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতায় এনভিডিয়া বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে।

প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন মাইক্রন টেকনোলজির সিইও সঞ্জয় মেহরোত্রা। তার উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ ২০২৩ সালে বেইজিং জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মাইক্রনের চিপ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। মাইক্রন তখন জানিয়েছিল যে, এই পদক্ষেপটি চীনে তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া প্রতিনিধি দলে মেটার প্রেসিডেন্ট ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, বোয়িংয়ের সিইও কেলি ওর্টবার্গ এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের ডেভিড সলোমনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত পর্যন্ত মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থের একটি বিশাল অংশ এই সিইওদের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইলুমিনা জানিয়েছে যে, তাদের সিইও জেকব থাইসেন এই সফরের অংশ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন। কোম্পানিটি আশা করছে এই সফর তাদের জন্য সম্পর্কের উন্নয়ন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি সুযোগ তৈরি করবে। তবে সিসকোর সিইও চাক রবিন্স আমন্ত্রিত হলেও কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাজের চাপে এই সফরে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের বিশাল বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের একটি চেষ্টা। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে, তার সমাধানে এই সিইওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে মার্কিন কর্পোরেট শক্তিগুলো বেইজিংয়ের সাথে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

banner
Link copied!