ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে মাঠে নামার আগে নিজেদের শক্তি ও ট্যাকটিক্যাল কম্বিনেশন ঝালিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পরাশক্তি সেলেসাওরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর আমেরিকার দল পানামার মুখোমুখি হবে। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী আগামী ১ জুন সোমবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে সরাসরি শুরু হবে, যা স্থানীয় ব্রাজিলিয়ান সময় ৩১ মে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দলের জন্য এই ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শনের একটি বড় মহড়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পানামার বিপক্ষে মাঠে নামার পর সেলেসাওরা তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আগামী ৬ জুন আফ্রিকার পরাশক্তি মিশরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষ করে আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ দিয়ে অফিসিয়াল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লুইজ হেনরিক ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের নিয়ে গড়া এই শক্তিশালী দল। ফলে ড্রেসিংরুমের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই ম্যাচে জয় পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ব্রাজিলের এই দল গঠন এবং একাদশ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ডান পায়ের কাফ মাংসপেশির গ্রেড-২ চোটের কারণে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা সত্ত্বেও কার্লো আনচেলত্তি তাকে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ ও শারীরিক সতর্কতার কারণে পানামা এবং মিশরের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে নেইমারের মাঠে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। ব্রাজিলিয়ান টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের মূল ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার আগে নেইমারকে সম্পূর্ণ ম্যাচ-ফিট এবং চোটমুক্ত অবস্থায় দলের মূল একাদশে ফিরিয়ে আনা।
অন্য দিকে পানামার ফুটবল দলও এই প্রীতি ম্যাচটিকে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি পরীক্ষা এবং কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছে। উত্তর আমেরিকার এই উদীয়মান দলটি আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এল’-এ স্থান পেয়েছে, যেখানে তাদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়তে হবে ঘানা, ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে। আগামী ১৭ জুন কানাডার টরন্টোতে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপের মূল পর্বের যাত্রা শুরু হবে। ফলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মারাকানার মতো ঐতিহাসিক ও চাপযুক্ত স্টেডিয়ামে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের ডিফেন্স লাইনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তরা এই আকর্ষণীয় ম্যাচটি টেলিভিশনের পর্দায় দেখার সুযোগ না পেলেও মোবাইল এবং অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। ব্রাজিলের অভ্যন্তরে এই ম্যাচটি ঐতিহ্যবাহী টিভি চ্যানেল গ্লোবো এবং স্পোর্টভি সরাসরি সম্প্রচার করবে, পাশাপাশি ইউটিউবের জিই টিভি চ্যানেল থেকেও গ্লোবাল লাইভ স্ট্রিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর অনলাইন স্ট্রিমিং অনেক সময় আঞ্চলিক বা জিও-রেস্ট্রিকশনের কারণে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে। তাই খেলা শুরুর আগে অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় স্পোর্টস সম্প্রচার সূচি বা কনটেন্ট স্বত্ব যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অনলাইন ও মোবাইল স্ক্রিনে যারা কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া খেলাটি উপভোগ করতে চান, তারা আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেমন টিওয়াইসি স্পোর্টস, ফুবো টিভি, ভিক্সে এবং ফুটবল লাইভ ট্র্যাকিং অ্যাপ ফুটমবের প্রিমিয়াম সাবক্রিপশনের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ফুটবলপ্রেমীরা গুগল ক্রোম ব্রাউজার বা যেকোনো নিরাপদ থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে জনপ্রিয় স্পোর্টজফাই应用程序টি ডাউনলোড করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং উচ্চ-রেজোলিউশনে এই প্রীতি ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের মূল দায়িত্ব সামলানো ভিনিসিয়ুস এবং রাফিনহোর পায়ের জাদু দেখতে ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন।
