রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্রাজিলকে কাঁপানো মরক্কোর তরুণ আয়ুব বোয়াদ্দির গল্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ব্রাজিলকে কাঁপানো মরক্কোর তরুণ আয়ুব বোয়াদ্দির গল্প

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে অভিষেক ম্যাচে ১৮ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার আয়ুব বোয়াদ্দি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম আল জাজিরা এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের তারকাখচিত মধ্যমাঠকে একাই নিয়ন্ত্রণ করে ১-১ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচে মরক্কোর প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই উদীয়মান তরুণ। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ সি-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে বোয়াদ্দি পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় মাঠে একজন অভিজ্ঞ অধিনায়কের মতো দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করেন। তার নিখুঁত বল বিতরণ এবং সঠিক অবস্থান নির্বাচন ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বারবার পরাস্ত করতে বাধ্য করেছে।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে বোয়াদ্দি পুরো সময়ে মোট ৮৬ বার বল স্পর্শ করেন এবং তার ৯১ শতাংশ পাসই ছিল সম্পূর্ণ নির্ভুল। এর পাশাপাশি তিনি মাঠে ৬ বার সফলভাবে বল উদ্ধার করেন, ৪টি নিখুঁত ট্যাকেল সম্পন্ন করেন এবং ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডুয়েল জয় করে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনায়াস দক্ষতায় পকেটে পুরে রাখেন। লিলের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে এসে খুব দ্রুতই তিনি মূল দলে নিজের জায়গা পাকা করে নেন এবং ফরাসি ফুটবলে অন্যতম সেরা আবিষ্কার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্বে সবার মুখে এখন একটাই নাম এবং ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা তাকে আটলাস লায়ন্সের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে অভিহিত করছেন।

ফ্রান্সের সেনলিস শহরে ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান ফুটবলারের ক্লাব ফুটবলে যাত্রা শুরু হয়েছিল ফরাসি ক্লাব লিলের মাধ্যমে। ফরাসি লিগ ওয়ানের দল লিলের হয়ে তিন মরশুমে প্রায় ৯০টিরও বেশি ম্যাচ খেলে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের ফুটবলীয় দূরদর্শিতা এবং দূরপাল্লার বল নিয়ন্ত্রণে অনন্য দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ২০২৩ সালে মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমে তিনি ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এক নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। ১ দশমিক ৮৫ মিটার উচ্চতার এই কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডারের অসাধারণ খেলার ধরন ও শান্ত মানসিকতা ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে বোয়াদ্দি ফ্রান্সের জাতীয় দলের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলেছিলেন এবং লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ম্যাচে দলের অধিনায়কত্বও করেছিলেন। তবে মরক্কান বংশোদ্ভূত হওয়ায় দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে তাকে নিজের দলে ভেড়ানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চলে। অবশেষে চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়ে মরক্কো এই লড়াইয়ে জয়ী হয় এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মরক্কোর এই বিশেষ কৌশল নতুন কোনো বিষয় নয় কারণ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশ হিসেবে প্রথম সেমিফাইনালে ওঠার পেছনেও এই ধরণের প্রবাসী প্রতিভাদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন যে এই তরুণকে মাঠে নামানো কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল না কারণ তিনি খেলোয়াড়দের কেবল পারফরম্যান্স দেখেন, বয়স নয়।

যা কম স্পষ্ট তা হলো ইউরোপের ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় হওয়া এই তরুণ মরক্কোর তীব্র চাপযুক্ত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে নিজের এই চেনা ছন্দ কতটা ধরে রাখতে পারবেন। আগামী ১৯ জুন ফক্সবরোতে গ্রুপ সি-এর দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মরক্কো এবং এর ঠিক পাঁচ দিন পর আটলান্টায় হাইতির বিপক্ষে তারা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে। এই উদীয়মান ফুটবলারের ওপর ভরসা করে মরক্কো এবারও বিশ্বকাপে নতুন কোনো অলৌকিক চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে যা বিশ্বজুড়ে তাদের লাখো সমর্থককে আলোড়িত করছে।

banner
Link copied!