টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলে মাঠের খেলায় বড় ধরনের কৌশলগত রূপান্তর শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২০টিতে জয় পেলেও দলের সার্বিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সহকারী কোচ অ্যান্থনি ব্যারিকে সঙ্গে নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের আধুনিক ধারা অনুসরণ করে এই কৌশল ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
এখন লক্ষ্য নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ।
বিশ্বকাপের আসরে দলটি ধারাবাহিকভাবে জয়ের দেখা পেয়েছিল বটে, তবে মাঠের সুশৃঙ্খল দাপটের চেয়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি। রক্ষণভাগ থেকে ছোট পাসে খেলা শুরু করা, প্রতিপক্ষকে সামনে টেনে আনা এবং মাঝমাঠ দ্রুত পার হয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানোর যে চেষ্টা তখন দেখা গিয়েছিল, সেটি পুরোপুরি নিখুঁত ছিল না। ৫৩ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ এখন সেই পরিকল্পনাই আরও ধারালো করছেন।
রক্ষণ থেকে আক্রমণ তৈরির দায়িত্বে এখন বাড়তি শক্তি।
আগে যেখানে দুজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ও একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ত্রিভুজ দিয়ে খেলা তৈরি হতো, সেখানে এবার যোগ হয়েছেন অতিরিক্ত একজন ফুটবলার। রক্ষণভাগে মার্ক গুয়েহি ও এজরি কোনসার সামনে ইলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং মাইলস লুইস-স্কেলিকে বসিয়ে দুই-দুই ছক গড়ে তোলা হচ্ছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত বদলে গিয়ে তিন-এক কাঠামোয় রূপ নেয়। ডেক্লান রাইসের অনুপস্থিতিতে অ্যান্ডারসনের পাশে বর্নমাউথের অ্যালেক্স স্কট কিংবা লুইস-স্কেলিকে দারুণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন নিচে নেমে গুয়েহি ও কোনসার সঙ্গে মিলে তিনজনের রক্ষণ তৈরি করায় বল দ্রুত সামনে পাঠানোর বাড়তি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই কৌশলে অ্যান্থনি গর্ডন নিচে নেমে এলে সামনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন মর্গান রজার্স।
টুখেল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বল ছাড়া দল সবসময় আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ে অভ্যস্ত ছিল, তবে এবার বল পায়ে রেখে খেলার তীব্রতায় আরেকটি স্তর যুক্ত করা হয়েছে। কাউন্টার প্রেসিং ও দ্রুতগতির মুভমেন্টে বাড়তি বিনিয়োগের মাধ্যমে বল দখলের তীব্রতা বাড়ানোকেই তিনি অগ্রগতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বকাপে ব্যবহৃত চার-তিন-তিন ছকে উইংয়ে তিনজনের সমন্বয় থাকলেও প্রতিপক্ষ ক্লান্ত হয়ে পড়লে গতি কমে যেত। বর্তমানে তিন-এক-তিন-তিন আদলে আক্রমণ সাজানোয় মাঠের বাম প্রান্তে ফুলব্যাক, উইঙ্গার ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের পাশাপাশি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার বা স্ট্রাইকার যুক্ত হয়ে পাঁচজনের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করছেন। এই কৌশলগত সংখ্যাধিক্যই প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
