বারো থেকে ষোল বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কের প্রবণতা। জনপ্রিয় সব মোবাইল অ্যাপ ও গেমিং প্ল্যাটফর্মে এসব বট সাজানো হচ্ছে এমনভাবে, যাতে তারা ব্যবহারকারীর সব চাহিদা পূরণ করতে পারে। মেল অ্যালাইস ইউকে-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরের মধ্যে একজন হয় নিজে এই সম্পর্কে জড়িত, অথবা তাদের পরিচিত কেউ এই ডিজিটাল সম্পর্কে আছে।
পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৫ শতাংশ কিশোর জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনো এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলেছে। এদের মধ্যে ২৬ শতাংশ কিশোর বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বের চেয়ে এআইয়ের মনোযোগ পেতে বেশি পছন্দ করে। অনেকে পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও এই ভার্চুয়াল চ্যাটবটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, এখানে কোনো ধরনের লজ্জা বা সংকোচ ছাড়া প্রশ্ন করা যায়।এআই প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেল অ্যালাইস ইউকে-এর লি চ্যাম্বারস জানিয়েছেন, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটি অ্যাপ ব্যবহার করে কিশোররা নিজেদের পছন্দমতো গার্লফ্রেন্ড তৈরি করতে পারছে। চেহারার গঠন থেকে শুরু করে কণ্ঠস্বর, এমনকি ব্যক্তিত্ব কেমন হবে—সবই কাস্টমাইজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বটগুলো এমনভাবে প্রোগ্রাম করা যে তারা সবসময় ব্যবহারকারীর কথার সাথে একমত পোষণ করে। বাস্তব জীবনের সম্পর্কের মতো এখানে কোনো মতবিরোধ বা চ্যালেঞ্জ নেই, যা কিশোরদের মনস্তত্ত্বে এক ধরণের বিকৃত ধারণা তৈরি করছে।
বাস্তব জীবনে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এআই বটগুলো সবসময় ইতিবাচক ফিডব্যাক দেওয়ায় কিশোররা বাস্তব জীবনে প্রত্যাখ্যাত হলে তা মানতে পারে না। এর ফলে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সহিংস আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অগোচরেই কিশোররা তাদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে এসব অ্যাপ ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই চ্যাটবটগুলো যৌন উত্তেজক আলাপচারিতার সুযোগ দিচ্ছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ব্রিটেনের এক স্কুলের শিক্ষকরা তাদের ছাত্রের মোবাইলে এ ধরণের আপত্তিকর চ্যাট খুঁজে পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে।
