রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভিডিও গেমের সার্ভার বন্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সরব গেমাররা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৭, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

ভিডিও গেমের সার্ভার বন্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সরব গেমাররা

অনলাইন ভিডিও গেমের সার্ভার বন্ধ করে গেমারদের খেলার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সরব হয়েছেন গেমাররা। স্টপ কিলিং গেমস নামক এই প্রচারণাটি গেম প্রকাশক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ, যেসব গেমের জন্য ব্যবহারকারীরা অর্থ প্রদান করেছেন, সার্ভার বন্ধ করার ফলে সেগুলো খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এই আন্দোলনটি এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউবিসফট নামক একটি বড় গেমিং স্টুডিও যখন তাদের দ্য ক্রু গেমটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, তখন এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ফ্রান্সভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সার্ভারের অবকাঠামো এবং লাইসেন্সিং সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তারা গেমটি আর চালু রাখতে পারছে না। অথচ, গেমটি বাজারে আসার পর এক কোটিরও বেশি খেলোয়াড় এটি উপভোগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গেমাররা তাদের কেনা পণ্যটি আর ব্যবহার করতে পারছেন না, যা তাদের জন্য হতাশাজনক।

স্টপ কিলিং গেমস প্রচারণার প্রতিষ্ঠাতা রস স্কট এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। রস স্কট দীর্ঘ দিন ধরে ভিডিও গেমের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, সৃজনশীল কাজগুলোকে এভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, সার্ভার বন্ধ করার অর্থ হলো যে কোনো গেমের বিক্রি হওয়া প্রতিটি কপি অকার্যকর করে দেওয়া, যা পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই আর খেলার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে এই আন্দোলনটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। ২০২৪ সালে রস স্কট প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি পিটিশন ইউরোপীয় কমিশনের কাছে জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এখন গেমাররা অপেক্ষা করছেন এই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের জন্য। তারা দাবি করছেন, প্রকাশক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন গেমের সার্ভার বন্ধের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করে।

অনেক গেমার মনে করেন, এটি অনেকটা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করার মতো। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই গেমগুলোর সাথে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের কাছে এটি কেবল একটি সফটওয়্যার নয়, বরং স্মৃতির অংশ। গেমিং কমিউনিটিগুলো এখন একজোট হয়ে এই বিষয়টির আইনি সমাধান খুঁজছে। তাদের এই লড়াই কেবল একটি গেমের সার্ভার বাঁচানোর জন্য নয়, বরং ডিজিটাল যুগে পণ্য কেনার অধিকার রক্ষা করার জন্য। গেমিং শিল্পের বিশাল মুনাফার বিপরীতে সাধারণ গ্রাহকদের অধিকার কতটা সংরক্ষিত থাকবে, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

banner
Link copied!