বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়াকড়ি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়াকড়ি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ১৫ বছরের কম বয়সীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার এবং মানসিক সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ওয়্যার সার্ভিস ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

শিশুদের সুরক্ষায় এই উদ্যোগ প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, তারা কেবল অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের অধীনে তৈরি নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ পাবে। কেবল ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নকশা শিশুদের জন্য নিরাপদ প্রমাণ করতে হবে, অন্যথায় বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানান, এই আইন পিতা-মাতাকে আবারও তদারকির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবে।

নতুন এই বিধিনিষেধ কেবল টিকটক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউটিউবের মতো ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় বার্তা প্রদানকারী চ্যাটবট এবং অনলাইন গেমের ওপরও এই নিয়ম কার্যকর হবে। শিশুদের মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন আসক্তিমূলক অ্যালগরিদম, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও রাতের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার শর্ত রাখা হয়েছে খসড়ায়। একইসঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল শুরু থেকেই ব্যক্তিগত বা গোপনীয় রাখতে হবে।

ফ্রান্স ও স্পেন আগেই শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সমন্বিত আইন অনুমোদিত হলে তা সকল সদস্য দেশের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। ফলে একক দেশগুলোর পূর্ববর্তী আইন সংশোধন বা বাতিল করতে হবে। ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিয়েছিল ম্যাক্রোঁ প্রশাসন, কিন্তু দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বিবেচনায় তা আটকে দেয়। এরপর ফরাসি মন্ত্রীরা তাদের মূল প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন।

সমালোচকেরা বয়স যাচাই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, তাদের পূর্বনির্ধারিত বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যেখানে কোনো পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি জরিপে ইউরোপের ৯২ শতাংশ নাগরিক শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা জোরদার করাকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী অগ্রাধিকার হিসেবে মত দিয়েছেন। এর আগে গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করে, যদিও দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে জরিমানা করা এখনও সম্ভব হয়নি। যুক্তরাজ্যেও আগামী বসন্তে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের এই প্রস্তাবটি কার্যকর হতে সদস্য দেশগুলোর চূড়ান্ত ঐকমত্য এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

banner
Link copied!