ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোর্দোর বন্দরে একটি ব্রিটিশ প্রমোদতরি সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জাহাজটিতে অন্তত ৪৯ জন যাত্রী ও ক্রু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলাইটিস বা পাকস্থলীর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে জাহাজটিতে থাকা ১,২৩৩ জন যাত্রী এবং ৫১৪ জন ক্রুকে আপাতত উপকূলে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ যাত্রী এবং একজন ক্রু সদস্য রয়েছেন বলে প্রমোদতরি পরিচালনাকারী সংস্থা অ্যাম্বাসেডর ক্রুজ লাইন নিশ্চিত করেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাজটি বোর্দো বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অ্যাম্বিশন নামক এই প্রমোদতরিটি মূলত ব্রিটিশ এবং আইরিশ নাগরিকদের নিয়ে বেলফাস্ট ও লিভারপুল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গত শনিবার লিভারপুল থেকে যাত্রী তোলার পর থেকেই জাহাজের ভেতরে অসুস্থতার লক্ষণগুলো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। বর্তমানে জাহাজের ভেতরে থাকা যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত কাউকে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতির কারণে বোর্দোর নির্ধারিত সব পর্যটন ভ্রমণ বা শোর এক্সকারশন বাতিল করা হয়েছে।
সম্প্রতি এমভি হন্ডিয়াস নামক অন্য একটি বিলাসবহুল জাহাজে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। তবে বোর্দোর আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে অ্যাম্বিশন জাহাজের এই সংক্রমণের সাথে হান্টাভাইরাসের কোনো যোগসূত্র নেই। এটি সাধারণ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলাইটিস বা পাকস্থলীর ফ্লু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে প্রমোদতরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য তারা ইতিমধ্যেই পূর্ণ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করেছে এবং জাহাজের ভেতরে স্যানিটেশন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ছাড়পত্র পাওয়ার সাথে সাথেই যাত্রীদের নামার অনুমতি দেওয়া হবে।
জাহাজটির এই সফরের মধ্যে একটি দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। গত সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রেস্ট বন্দরে যাত্রাবিরতি চলাকালীন ৯২ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ যাত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে স্থানীয় প্রিফেকচার জানিয়েছে যে ওই মৃত্যুর সাথে বর্তমানের এই ভাইরাস সংক্রমণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। অ্যাম্বাসেডর ক্রুজ লাইন সংস্থাটি মূলত ৫০ বছরের বেশি বয়সী পর্যটকদের লক্ষ্য করে তাদের সেবা প্রদান করে। ২০২১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা পর্যটন বাজারে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে তারা ফরাসি প্রশাসনের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে।
প্রমোদতরিতে এই ধরনের গণ-সংক্রমণ নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং মহামারির পরবর্তী সতর্কতার কারণে ফরাসি কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বোর্দোর এই ঘটনাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে রয়েছে কারণ এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয় বরং কয়েক শ পর্যটকের নিরাপত্তার সাথেও জড়িত। অনেক যাত্রী জাহাজের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ও অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের একটি দল বর্তমানে জাহাজের ভেতরে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করছেন।
