গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৪৮৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে আরও অন্তত ৩১৮ জন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরা হয়।এইচআরএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত এবং ১ হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিশু হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যা জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে সব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।
এইচআরএসএস বলেছে, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু সুরক্ষায় বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা এবং দুর্বল বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিবৃতিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা শিশু নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এর আগে ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আছিয়া আক্তার ও ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এছাড়া ৬ মে সিলেট সদর উপজেলায় ফাহিমা আক্তার নামে আরও এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটে।শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া এসব ভয়াবহ ঘটনা রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। এ জন্য সামাজিক প্রতিরোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ জরুরি। সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয়।
