বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারতে নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়ারা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ১১:০০ পিএম

ভারতে নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মতুয়ারা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পেয়ে আসছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন কি না, তা নিয়ে এখন চলছে তীব্র জল্পনা ও উদ্বেগ।নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। এরপর বিজিবি-র সাথে কথা বলে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তার এই ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি মতুয়াদের মধ্যে এই ভয়ের জন্ম দিয়েছে যে, তাদেরও হয়তো অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।নাগরিকত্বের আবেদনের জটিলতা অনেকের মনে ভীতি ছড়াচ্ছে।

মতুয়া সম্প্রদায়ের অনেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় তাদের নাম বাদ পড়ায় সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করছেন। তবে সিএএ-এর অধীনে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত হলো আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বাংলাদেশ থেকে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছেন। এই প্রমাণপত্র জোগাড় করা অনেক প্রবীণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।কাগজপত্রের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আবেদনকারীকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসার সত্যতা যাচাই করতে হয়। অনেকের কাছেই বাংলাদেশের জমি বা বাসস্থানের কোনো পুরোনো দলিল নেই। এছাড়া তারা নিজেদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র জমা দিতেও দ্বিধাবোধ করছেন। সব মিলিয়ে সিএএ-এর আবেদন প্রক্রিয়াটি তাদের কাছে একটি গোলকধাঁধার মতো মনে হচ্ছে।সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সংখ্যা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্যদের দাবির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যায়। মন্ত্রণালয় বলছে হাজার হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন, অথচ অন্য সূত্রমতে সংখ্যাটি কয়েকশোর বেশি নয়। সঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে মতুয়াদের বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।ভুয়া নথি তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মতুয়া অধিকার কর্মী সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসের মতে, নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অনেকে ভুয়া নথি তৈরির পথে পা বাড়াতে পারেন। এছাড়া সিএএ-এর আবেদন নাকচ হলে আবেদনকারীকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করার সম্ভাবনা তাদের আরও আতঙ্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা সিএএ-এর বাইরে বিকল্প কোনো আইনি সুরক্ষার অপেক্ষায় আছেন।মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে মতুয়ারা কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে ৩০টিরও বেশি বিধানসভা আসনে তারা নির্ণায়ক শক্তি। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণের ফলে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন, যার প্রভাব তাদের দাবি ও প্রাপ্তির ওপর সরাসরি পড়ছে।

banner
Link copied!