বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পেন্টাগনে ‘বিপজ্জনক পদার্থ’ শনাক্ত, ভবন লকডাউন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১১, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

পেন্টাগনে ‘বিপজ্জনক পদার্থ’ শনাক্ত, ভবন লকডাউন

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সদর দপ্তর পেন্টাগনের ভেতরে বায়ুর গুণগত মান সম্পর্কিত সমস্যা ও বিপজ্জনক পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর ভবনটির একাধিক ফ্লোর ও করিডোরে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনার পরপরই ভেতরের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর প্রোটোকল মেনে পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পেন্টাগন কমপ্লেক্সের চার থেকে সাত নম্বর করিডোরের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের গ্যাস মাস্ক এবং পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক সুরক্ষা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভবনের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত একটি সমস্যা ধরা পড়েছে। এর কারণ উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব জায়গায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানে শেল্টার-ইন-প্লেস বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ মেনে চলা হচ্ছে। ভবনে অবস্থানরত কর্মীদের সহায়তার জন্য বিশেষায়িত টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেমি জিল জানান, তাদের নিজস্ব দাঙ্গাবিরোধী দল এবং আর্লিংটন কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের হাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল বা বিপজ্জনক পদার্থ বিষয়ক বিশেষ দল যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছে।

আর্লিংটন ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে যে, তাদের বিশেষ টিম পেন্টাগনে এই বিপজ্জনক পদার্থসংক্রান্ত ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। পেন্টাগন সিকিউরিটি টিমের পাঠানো বার্তার তথ্যমতে, বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেন্টার কোর্টইয়ার্ডে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সতর্কতামূলক কার্যক্রম চলছে, যা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগন পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ও আইকনিক প্রশাসনিক ভবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত এই ভবনের আয়তন প্রায় ৬৫ লাখ বর্গফুট। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আরও তিন হাজার সহায়তাকারী কর্মী কাজ করেন। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এই ভবনে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সি সবসময় সজাগ থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে।

banner
Link copied!