ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা হ্রাসের জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত সামরিক হটলাইন চালুর দাবি শনিবার পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। তেহরানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে হরমুজ প্রণালী ইরানের নিজস্ব ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তার সাথে আমেরিকার কোনো ধরনের সংযোগ বা অধিকার নেই। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি জরুরি হটলাইন চালু করা হবে, যা পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলপথে সামরিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।
এই কূটনৈতিক বাদানুবাদ এমন এক সময়ে সামনে এল যখন গত শুক্রবার এবং শনিবার হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পুনরায় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তেহরান কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ নৌপথের বাইরে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারীরা লক্ষ্যবস্তু করার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আইআরজিসির মুখপাত্র তার বিবৃতিতে কেবল সামরিক পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নাকি বেসামরিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন কোনো পৃথক চ্যানেলও বাতিল করেছেন তা পরিষ্কার করেননি। আমেরিকার কর্মকর্তাদের এই ধরনের দাবিকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এর আগে গত সোমবার সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে পারস্য উপসাগরে সংঘাত এড়াতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী যোগাযোগের মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি ব্রিটিশ গণমাধ্যম আনহার্ডকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দুই পক্ষই সরাসরি সামরিক যোগাযোগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং আইআরজিসির একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি কাতারের দোহায় মার্কিন সেন্টকমের কর্মকর্তার সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন। মার্কিন সরকার আইআরজিসিকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পরও এই ধরনের আলোচনার দাবি করা হয়েছিল যা এখন তেহরান অস্বীকার করছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো আমেরিকার এই দাবি প্রত্যাখ্যানের পর পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর আগে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের বন্দর আব্বাসে নতুন করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও সামরিক মহড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের জলসীমায় যেকোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ তারা কঠোর হস্তে দমন করবে এবং নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না। এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত থমথমে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
