কাতারের ফাদার আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করতে এবং সমবেদনা জানাতে বিশ্ব ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ দোহার লুসাইল প্রাসাদে সমবেত হচ্ছেন বলে আল জাজিরা এবং আমিরি দিওয়ান নিশ্চিত করেছে। কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী এই শোক সভায় আগত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাগত জানাচ্ছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করা দেশটির আধুনিক রূপকার শেখ হামাদ গত সপ্তাহে ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর দেশটিতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। আল জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে যে মরহুম আমিরের জানাজার নামাজ দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং এরপর তাকে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কাতারের রাজকীয় আদালত বা আমিরি দিওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাহরাইনের ক্রাউন প্রিন্স সালমান বিন হামাদ আল খলিফা সোমবার লুসাইল প্রাসাদে এসে আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং শোক প্রকাশ করেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি মঙ্গলবার সকালে কাতারের আমিরের কাছে তার গভীর সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ সোমবার সকালে দোহায় এসে শোক প্রকাশ করেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে সোমবার লুসাইল প্রাসাদে উপস্থিত হয়েছেন এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মঙ্গলবার ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে শোক জানিয়েছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা সোমবার দোহায় এসে কাতারের আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুম আমিরের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি সোমবার রাতে প্রাসাদে এসে গভীর শোক প্রকাশ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানের ক্রাউন প্রিন্স শেখ আম্মার বিন হুমাইদ আল নুয়াইমি এবং ওমানের উপ-প্রধানমন্ত্রী শিহাব বিন তারিক আল সাইদ কাতারের রাজপরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে আসেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দোহায় পৌঁছে শোক প্রকাশ করেছেন বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভও ব্যক্তিগতভাবে লুসাইল প্রাসাদে আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব নেতাদের এই বিশাল সমাগম কাতার ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো মোড় আনবে কি না। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোও দোহায় উপস্থিত হয়ে কাতারের ফাদার আমির শেখ হামাদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। আধুনিক কাতারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে দেশটির রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির পেছনে মরহুম ফাদার আমিরের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতা সবসময় স্মরণীয় থাকবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের শোকবার্তায় উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে কাতারের শীর্ষস্থান অর্জনের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিলেন এই দূরদর্শী নেতা।
কাতারের সাধারণ নাগরিক এবং রাজপরিবারের সদস্যরা এই জাতীয় শোকের সময়ে তাদের প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন যিনি কাতারকে একটি আধুনিক এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চার দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ ফাদার আমিরের ইন্তেকালকে পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বব্যাপী মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তার অবদান আরব ও মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘকাল ধরে প্রশংসিত হবে বলে আল আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম তার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।
