শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ছয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ছয়

থাইল্যান্ডের একটি নামী বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সপ্তাহের শেষ ক্লাসের কার্যক্রম চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোর এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। এই হামলায় পাঁচজন শিক্ষকসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং শিক্ষার্থীসহ ত্রিশের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় শ্রেণিকক্ষে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, তিনি শিক্ষকের ঠিক সামনে অবস্থান করছিলেন যখন বন্দুকধারী এসে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। হামলাকারী একের পর এক কক্ষে গিয়ে হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে নিজের ওপর অস্ত্র চালনা করে আত্মহত্যা করে। শিক্ষার্থীরা প্রাণ বাঁচাতে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি কিশোরটির দাদার ছিল। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এই ঘটনাকে অত্যন্ত পরিকল্পিত উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন যে, পড়াশোনার চাপ এবং পারিবারিক কঠোরতা এই ট্র্যাজেডির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই ঘটনা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘদিনের নীতি ও শিথিলতা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দেশটিতে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং অবৈধ অস্ত্রের কালোবাজারের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ার কারণে এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির সুযোগে অবৈধ অস্ত্র সহজে হাতবদল হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও নিহতের স্বজনরা এই ধরনের ট্র্যাজেডি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছেন। বিস্তারিত তথ্য এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

banner
Link copied!