দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে সহকর্মীর হাতে ছুরিকাহত হয়েও শেষ পর্যন্ত আরোহীদের বাঁচিয়ে রাখার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন প্রধান পাইলট স্মিত মাচ্ছার। মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি যখন দ্রুত নিচে নামছিল, তখন রক্তাক্ত মেঝেতে পড়ে থেকেই তিনি ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। ভেতরে যাত্রী ও অন্য চালকেরা ঢুকে হামলাকারীকে আটকে ফেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
বিমানের ১৭০ জনেরও বেশি আরোহী অক্ষত রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ যাত্রার আড়াই ঘণ্টা পর। বিমানটি মুহূর্তের মধ্যে ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এর আগেই ককপিট থেকে বিপৎসংকেত এবং পরে ছিনতাই নির্দেশক স্কোয়াক ৭৫০০ বার্তা পাঠানো হয়েছিল। আহত মাচ্ছার জানান, রক্তক্ষরণে নিস্তেজ হয়ে পড়ার মুহূর্তেও তিনি বুঝতে পারছিলেন বিমানটি আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।
নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি অন্যদের রক্ষা করতেই তিনি শেষ শক্তি দিয়ে দরজা খুলেছিলেন। দরজার লক খোলার পরপরই কয়েকজন যাত্রী ও সেখানে উপস্থিত থাকা দুজন রিজার্ভ পাইলট ককপিটে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।
এরপর নিরাপদে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাচ্ছারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ বছর ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মাচ্ছার বলেন, চোখ বন্ধ থাকলেও তিনি বিমানের গতিবিধি বুঝতে পারেন। আঘাতকে ক্ষতের বদলে সুস্থ হয়ে ওঠার একটি দীর্ঘ পথ হিসেবে দেখছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে আটক হামলাকারী একজন ওমানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। আহত ভারতীয় পাইলটকে তাবুক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুধাবিতে পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
