মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বাগদাদের অজান্তেই ইরাকি মরুভূমিতে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

বাগদাদের অজান্তেই ইরাকি মরুভূমিতে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি?

ইরাকের বিস্তৃত মরুভূমির গভীরে ইসরায়েল একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং পরবর্তীতে বিমান হামলার লজিস্টিক সহায়তা দিতে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই ইরাকের অভ্যন্তরে এই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোপন ঘাঁটিটি মূলত ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের আবাসন এবং লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানে হামলা চালানোর সময় যদি কোনো ইসরায়েলি পাইলট বা বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তবে তাদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) এই ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে স্থাপন করা হয়। খোলা তথ্যের বিশ্লেষকরা (OSINT) সৌদি আরবের সীমান্তের কাছে ইরাকি মরুভূমিতে স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে এই ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করেছেন। মার্চের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী এই ঘাঁটির সন্ধান পেতে শুরু করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর আকাশপথ থেকে হামলা চালায় বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইরাকের ডেপুটি কমান্ডার অব জয়েন্ট অপারেশনস লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাইস আল-মুহাম্মাদাবি গত বৃহস্পতিবার জানান যে, বাগদাদ কারবালার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নাজাফ মরুভূমিতে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়েছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনটি রেজিমেন্ট পাঠানো হলে তারা আকাশপথ থেকে হামলার শিকার হয়। এতে একজন ইরাকি যোদ্ধা নিহত এবং দুইজন আহত হন। পরবর্তীতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সেখানে তল্লাশি চালালেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সেনারা ৪৮ ঘণ্টার বেশি এক স্থানে অবস্থান না করার কৌশল অবলম্বন করেছিল।

এই ঘাঁটির অস্তিত্ব নিয়ে ইরাক সরকারের ভেতরেও দ্বিধাবিভক্ত বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদাদ মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই গোপন সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল। তবে সম্প্রতি ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই খবর অস্বীকার করে একে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে বদর অর্গানাইজেশনের একজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন যে, পশ্চিম ইরাকে একটি যৌথ ‘ইউএস-ইসরায়েলি’ সামরিক ক্যাম্পের অস্তিত্ব রয়েছে। ইরাকের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, মার্কিনিদের ছত্রছায়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরাক মূলত একটি ‘মার্কিন প্রতারণার’ শিকার হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন যে, তেহরান এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখছে এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক সরকারের কাছে উত্থাপন করা হবে। তার মতে, ইসরায়েল এই অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টি করতে এবং ইরানের স্বার্থে আঘাত হানতে কোনো সীমা মেনে চলে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির সরকারি ‘কান’ রেডিও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আরবের কিছু পক্ষ এই ঘাঁটির কথা আগে থেকেই জানত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাক মূলত ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল অক্ষের মাঝখানে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই গোপন ঘাঁটির প্রকাশ ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে মার্কিন বিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরি করতে পারে।

banner
Link copied!