মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

সামাজিক নগ্নতা মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

সামাজিক নগ্নতা মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়

বিবিসি নিউজের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগ্নতার সামাজিক চর্চা বা ন্যাচরিজম মানুষের শারীরিক গঠন বা বডি ইমেজ সংক্রান্ত নেতিবাচক ধারণা দূর করতে জোরালো সহায়তা করে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নানা ডিজিটাল ফিল্টারের প্রভাবে মানুষের মনে নিজের শারীরিক রূপ নিয়ে তীব্র অসন্তুষ্টি তৈরি হচ্ছে। এই সামাজিক চাপ থেকে মুক্ত হতে এবং শরীরের প্রতি একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে অনেকেই এখন এই জীবনধারার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মনস্তাত্ত্বিক গবেষকদের মতে, সামাজিক নগ্নতার মূল উদ্দেশ্য কোনো ধরনের যৌন উদ্দীপনা নয়, বরং মানবদেহকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।

রিজেন্টস ইউনিভার্সিটি লন্ডনের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কেরেম সয়লেমেজ উল্লেখ করেছেন যে এটি কেবল অন্যের দ্বারা গৃহীত হওয়ার বিষয় নয়, বরং নিজের ভেতরকার আত্মগ্রহণযোগ্যতা তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের গবেষকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিষয়ের ওপর বেশ কিছু পরীক্ষামূলক গবেষণা পরিচালনা করেছেন এবং ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে নিজের শারীরিক গঠন ও ওজন নিয়ে মানসিক কষ্টে ভোগা হেলেন বেরিম্যান এবং মার্থা ভিকেরির মতো বহু মানুষ জানিয়েছেন যে এই অভিজ্ঞতা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সমাজের বেঁধে দেওয়া কৃত্রিম সৌন্দর্যের নিখুঁত মাপকাঠির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের বাস্তব শারীরিক রূপ দেখতে পাওয়ার ফলে নিজস্ব অবয়ব নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার অবসান ঘটে। গবেষকরা বলছেন যে এই ধরনের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ মানুষের ভেতরের সামাজিক লজ্জা এবং শারীরিক উৎকণ্ঠা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

রোহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সিনিয়র লেকচারার মারিনা রাচিটসকি উল্লেখ করেছেন যে প্রতিনিয়ত নিখুঁত ও আদর্শ শরীরের ছবি দেখার কারণে মানুষ স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ভুলে যায়। সাধারণ মানুষের বাস্তব শরীর দেখার সুযোগ পেলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধি পায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা এই ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেন তাদের মধ্যে শারীরিক গঠন সংক্রান্ত উদ্বেগ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় এবং জীবন নিয়ে সামগ্রিক সন্তুষ্টি বেড়ে যায়।

তবে এই চর্চার সাথে নানা সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিতর্কও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। অনেক রক্ষণশীল সমাজে নগ্নতার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখা হয় এবং এর আইনি বৈধতাও অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও যারা নিয়মিত এই চর্চার সাথে যুক্ত থাকেন, তারা এটিকে প্রকৃতি এবং নিজের শরীরের সাথে এক গভীর সংযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং আধুনিক যুগের তুলনা সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

banner
Link copied!