বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পর্তুগালে প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন: লিসবনে ইউরোপের বড় জামাত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

পর্তুগালে প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন: লিসবনে ইউরোপের বড় জামাত

ইউরোপের উন্নত দেশ পর্তুগালে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের মুসলিম নাগরিকরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরের প্রধান প্রধান মসজিদ ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে একযোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দূর প্রবাসে দেশের চিরচেনা আমেজ না থাকলেও মুসলিম কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পর্তুগাল জুড়ে এক টুকরো বাংলাদেশ তৈরি হয়েছিল।

পর্তুগালে প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় সমাগমটি ঘটে দেশের রাজধানীতে।

লিসবনের প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক মাতৃম মনিজ পার্কের উন্মুক্ত চত্বরে এবারও ইউরোপের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফজরের নামাজের পরপরই বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মুসল্লি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে এই মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শুরুর আগে মার্তিম মনিজ মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা মিছবাহ উদ্দীন জুবায়ের ঈদুল আজহার কোরবানি ও ত্যাগের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আবু সাঈদের ইমামতিতে মূল জামাত সম্পন্ন হয়।

লিসবনের পাশাপাশি পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দরনগরী পোর্তো বা পর্তো শহরেও প্রবাসী মুসলমানদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল স্থানীয় ধর্মীয় কেন্দ্রগুলো। বিশেষ করে পোর্তোর কেন্দ্রীয় হযরত হামজা (রা.) জামে মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির থাকার কারণে পর্যায়ক্রমে তিনটি আলাদা জামাতের আয়োজন করা হয়। সকাল ৬টা থেকে শুরু করে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা এই জামাতগুলোতে ইমামতি করেন যথাক্রমে মাওলানা ফখরুল ইসলাম, হাফেজ মেহমুত সাই এবং মাওলানা ইমরান হোসেন। পোর্তো সেন্ট্রাল মসজিদেও সমান্তরালভাবে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পর্তুগালের স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসল্লিদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে এবং প্রত্যেকে যেন নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য আগে থেকেই নিরাপত্তা ও ট্রাফিকের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। নামাজ শেষে প্রবাসীরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা যান্ত্রিক প্রবাস জীবনে স্বজন হারানোর বেদনাকে কিছুটা হলেও দূর করে। নামাজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সামর্থ্যবান মুসলিমরা পর্তুগালের নির্ধারিত নিয়ম মেনে তাদের প্রিয় পশু কোরবানি সম্পন্ন করেন।

banner
Link copied!