রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৪৭

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৪৭

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, শূন্য দশমিক সাত মাত্রার এই প্রবল ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাতচল্লিশ জন মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের বেশ গভীরে এবং এর জেরে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে বেশ কয়েকজন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ও দূরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত হিসাব পেতে উদ্ধারকর্মীদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর ঝাঁকুনি রাজধানী জাকার্তা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও অনুভূত হয়েছে। মাউমেরে বন্দরের একটি প্রান্তিক ভবনের কংক্রিটের অংশ ধসে পড়ে জলযানের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। এদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উচ্চভূমিতে পালিয়ে যান। তবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকায় ঘটনার তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই বড় ধরনের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ঘটে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপকূলীয় এলাকা এবং ফাটল ধরা বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

banner
Link copied!