যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে আঘাত হেনেছে ক্যাটাগরি এক মাত্রার শক্তিশালী হারিকেন লালা, যার ফলে অঞ্চলজুড়ে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে বলে বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। ঝড়ের প্রভাবে বিগ আইল্যান্ড ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আবহাওয়ার কারণে সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন। হারিকেনটি সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না হানলেও উপকূলের অত্যন্ত কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন লালা শনিবার শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় একশ ত্রিশ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগ অর্জন করে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় তেষ্পান্ন সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং সাগরে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাওয়াইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং একাধিক হাসপাতালে জরুরি জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডসহ অন্যান্য দ্বীপে গণসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ঝড়ের গতিপথ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ায় আগামী দিনে এর প্রভাব আরও কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ১৯৯২ সালের ইনিকি হারিকেনের পর এই অঞ্চলে এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলো স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
