বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন ৮টি সহজ উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন ৮টি সহজ উপায়

আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকা আর একই ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে থাকা। আমরা কাজ শেষ করার তাড়নায় হয়তো ভুলে যাই যে আমাদের শরীর এই দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতার জন্য মোটেও তৈরি হয়নি। ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘লঞ্জিভিটি মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ তার দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমাদের হৃদযন্ত্র আধুনিক কর্মদিবসের এই রুটিনকে মোটেও পছন্দ করছে না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকিকে এক ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। হৃদরোগ আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফল নয়, বরং এটি আমাদের ভুল জীবনযাপনের এক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসেবে দেখা দেয়।

তবে আশার কথা হচ্ছে কিছু ছোট ছোট দৈনিক অভ্যাসের মাধ্যমেই এই শারীরিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ এবং ডা. পাল্লেটি শিবা কার্তিক রেড্ডির পরামর্শ অনুযায়ী দিনের শুরু হওয়া উচিত প্রাকৃতিক আলোয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্মার্টফোনের নীল আলোয় ডুব দেওয়া শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট করে দেয়। তাই ফোনের স্ক্রিনের বদলে চোখের সামনে দিনের আলো বা সূর্যের আলো আসতে দেওয়া জরুরি, যা সরাসরি রক্তচাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি সকালের নাস্তাটি কেবল নামমাত্র না করে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম বা দই দিয়ে করা উচিত। এটি সারাদিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।

অফিসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর শরীরে যে স্থবিরতা তৈরি হয় তাকে চিকিৎসকরা ‘ডেস্ক-চেয়ার কোমা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই স্থবিরতা কাটাতে দুপুরের খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং গ্লুকোজ মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। সারাদিন বসে থাকার ক্লান্তি কাটাতে সন্ধ্যায় খুব ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। হালকা যোগব্যায়াম বা স্রেফ শিশুদের সাথে খেলাধুলা করার মতো সাধারণ শারীরিক কাজগুলোও হৃদযন্ত্রের জন্য দারুণ কার্যকর হতে পারে। রাতের খাবারের পর ঘরের উজ্জ্বল আলো কমিয়ে দেওয়া এবং ল্যাপটপ বা ফোনের ব্যবহার বন্ধ রাখা বাঞ্ছনীয়। ঘুমের আগে এই ডিজিটাল ডিটক্স মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে যা পরোক্ষভাবে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমায়।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমকে কেবল বিশ্রাম নয় বরং একটি অতি প্রয়োজনীয় ঔষধ হিসেবে ভাবতে হবে। চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত গভীর ঘুম হৃদযন্ত্রের টিস্যু মেরামত এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরে প্রদাহ কমে এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় কেবল জিম বা ডায়েট যথেষ্ট নয় বরং মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক মেলামেশাও সমান জরুরি। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানো হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খুব বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, বরং প্রতিদিনের রুটিনে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর প্রতি সংবেদনশীল হওয়া এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই দীর্ঘায়ু হওয়ার চাবিকাঠি।

banner
Link copied!