ইসরায়েলি কারাগারে দীর্ঘ আঠারো মাস ধরে বিনা বিচারে আটকে থাকা ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক বায়ান্ন বছর বয়সী এই চিকিৎসককে যেভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে কমিশন মনে করে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে যে, কারাগারের ভেতরে তাকে ক্রমাগত অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
হুসাম আবু সাফিয়ার আইনজীবী নাসের ওদেহ জানিয়েছেন, কারাগারে চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। নিয়মিত নির্যাতনের কারণে তার জীবন এখন চরম হুমকির মুখে। চিকিৎসকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরায়েল জানিয়েছে, সম্প্রতি সাক্ষাতের সময় আইনজীবীরা তাকে চিনতেই পারছিলেন না। তার শরীরে মারাত্মক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা নিয়মিত নির্যাতনের প্রমাণ বহন করে।
পরিবার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে তাকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে তিনি গাজার স্বাস্থ্যসেবা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটকের পর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মতে, এটি একটি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের কমিশন বারবার ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বন্দিদের অধিকার রক্ষা করা হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চিকিৎসকের পরিবার এবং মানবাধিকার কর্মীরা বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন অবিলম্বে এই চিকিৎসকের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ইসরায়েলের হামলা ও ধরপাকড় নতুন কিছু নয়। অনেক চিকিৎসক ও নার্সকে যুদ্ধ চলাকালীন আটক করা হয়েছে। হুসাম আবু সাফিয়ার ঘটনাটি গাজার বিধ্বস্ত স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থার এক করুণ প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মহল এখন তার মুক্তি এবং তাকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছে। জাতিসংঘের এই হস্তক্ষেপের পর ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের ভাগ্য কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।
