বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দন্তচিকিৎসকের ভুল: এইচআইভি ও হেপাটাইটিস ঝুঁকি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দন্তচিকিৎসকের ভুল: এইচআইভি ও হেপাটাইটিস ঝুঁকি

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একজন সাবেক দন্তচিকিৎসকের ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া হাজার হাজার রোগীকে রক্তবাহিত ভাইরাস পরীক্ষার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম সিডনির স্ট্র্যাথফিল্ডে অবস্থিত ড. উইলিয়াম ট্যামের ক্লিনিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে। এর ফলে সেখানে গত ২৫ বছর ধরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এই ঝুঁকির মাত্রা কম বলে উল্লেখ করেছে, তবুও নিরাপত্তার খাতিরে সব রোগীকে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ড. উইলিয়াম ট্যাম বর্তমানে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং দন্তচিকিৎসক হিসেবে তার নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের পাবলিক হেলথ ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ড. লীনা গুপ্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ক্লিনিকে জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে সাবেক রোগীরা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এইচআইভি বা হেপাটাইটিসের মতো ভাইরাসগুলো শরীরে প্রবেশের পর কয়েক দশক ধরে কোনো উপসর্গ প্রকাশ না-ও করতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি যাতে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ড. ট্যাম গত ২৫ বছরে কয়েক হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে ক্লিনিকটিতে পর্যাপ্ত রেকর্ড বা নথিপত্র না থাকায় সব রোগীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টের বিশেষজ্ঞ ড. জাইনা নাজ্জার বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত এপ্রিল মাসে ড. ট্যামের ক্লিনিকে একটি অডিট বা নিরীক্ষা চালানো হয়। সেই সময় পরিদর্শকরা ক্লিনিকে সরঞ্জাম পরিষ্কার করার পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং অপর্যাপ্তভাবে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতির অস্তিত্ব খুঁজে পান। এই অডিটের দুই সপ্তাহ পরেই ড. ট্যাম অবসরে চলে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে সিডনির হ্যাবারফিল্ডের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে একই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রায় ১০ হাজার রোগীকে রক্ত পরীক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে সিডনির দক্ষিণ শহরতলী মর্টডেলের আরেকটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও একই রকম অভিযোগ ওঠে। সেই সময় সংশ্লিষ্ট দন্তচিকিৎসককে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড লঙ্ঘনের দায়ে চিকিৎসা পেশা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সিডনির স্বাস্থ্য বিভাগ এখন এই নতুন ঘটনার শিকার রোগীদের দ্রুত জিপি বা নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করছে।

কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রোগীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে, ক্লিনিকে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবটিই বড় উদ্বেগের কারণ। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সিডনির স্বাস্থ্য বিভাগ এখন স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছে। বিশেষ করে যারা ড. ট্যামের অধীনে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষাটি এখন আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দন্তচিকিৎসার মতো সংবেদনশীল সেবার ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র অবহেলা যে কত বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।

banner
Link copied!