জিলহজ মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, ত্যাগ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মৌসুম। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেকে তা দিতে পারেন না। তবে আল্লাহর রহমত থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না, বরং যারা কোরবানি দিতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ আমল ও সওয়াবের সুযোগ রেখেছে শরিয়ত।
সামর্থ্যহীনদের জন্য এটিই বিশাল সুযোগ।
যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য একটি বিশেষ আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ঈদের দিন তোমার চুল, নখ ও গোঁফ ছাঁটবে এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে, আল্লাহর কাছে এটিই তোমার কোরবানির মতো হবে। জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে ১০ই জিলহজ ঈদের নামাজের আগ পর্যন্ত নখ, চুল ও গোঁফ না কেটে রাখুন এবং ঈদের নামাজের পর কাটুন। সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ি: ৪৩৬৫।
অসচ্ছল উম্মতের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হলো স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি করে গেছেন।
হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জবাই করার সময় বললেন, আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কোরবানি আমার ও আমার উম্মতের যারা কোরবানি করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে। হাদিসটির সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৮১০; জামে তিরমিজি: ১৫২১।
কোরবানি দিতে না পারলেও জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মূল্যবান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই দিনগুলোতে নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই, এমনকি জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে জান-মাল দিয়ে বেরিয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফেরেনি। এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাসবিহ, তাহমিদ, তাহলিল ও তাকবির পাঠ করা উচিত।
আরাফার রোজা রাখার ফজিলত অতুলনীয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে। সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং কোনো মুমিনের মনে যদি আন্তরিক ইচ্ছা থাকে যে সামর্থ্য থাকলে সে অবশ্যই কোরবানি দিত, তবে এই সৎ নিয়তের কারণেও আল্লাহ তাকে সওয়াব দান করতে পারেন। আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে পশু জবাই করতে না পারলেও জিকির, রোজা ও সুন্নাহসম্মত আমলের মাধ্যমে এই মোবারক মাসের পূর্ণ সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। (সুরা হজ, ২২:৩৭)
তথ্যসূত্র: আবু দাউদ, তিরমিজি, সহিহ বুখারি, সুরা হজ।
