শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মক্কায় ৪০০ বছরের পুরনো কোরআন প্রদর্শন করছে মিউজিয়াম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

মক্কায় ৪০০ বছরের পুরনো কোরআন প্রদর্শন করছে মিউজিয়াম

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত হোলি কোরআন মিউজিয়ামে শুক্রবার ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিরল কোরআন পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে সৌদি প্রেস এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। ইসলামিক সভ্যতার সমৃদ্ধ শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই প্রাচীন গ্রন্থটি বর্তমানে সেখানে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি মূলত একাদশ হিজরি শতকের তথা খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর সময়ের তৈরি বলে প্রাথমিক গবেষণায় জানা গেছে। সে সময়ের অত্যন্ত দক্ষ লিপিকার ও কারুশিল্পীদের নিখুঁত হাতের কাজ এই পবিত্র গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যা তৎকালীন ইসলামী শিল্পকলার উৎকর্ষের প্রমাণ দেয়।

এই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপিটির বিশেষত্ব হলো এর প্রতিটি পাতায় করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নান্দনিক সোনালি অলংকরণ এবং উজ্জ্বল রঙের নিখুঁত ব্যবহার। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে প্রাচীন এই পবিত্র গ্রন্থের পাতাগুলোতে অত্যন্ত জটিল ফুলের নকশা এবং জ্যামিতিক অলংকরণ ব্যবহার করা হয়েছে যা দর্শকদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে পবিত্র সূরা আল ফাতিহার প্রথম পাতাটিতে যে চমৎকার জ্যামিতিক নকশা এবং খাঁটি স্বর্ণের কারুকাজের অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে তা সত্যিই বিরল। বিশেষজ্ঞদের মতে তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত ইসলামী লিপিকার ও অলংকারশিল্পীরা পবিত্র কোরআনের বাণীকে এক অনন্য শিল্পমাধ্যমে রূপান্তর করার জন্য এই ধরনের রাজকীয় নকশা তৈরি করতেন।

হেরা কালচারাল ডিস্ট্রিক্টের অধীনে পরিচালিত এই বিশেষ মিউজিয়ামটি মূলত কোরআনিক লিপির দীর্ঘ ইতিহাস এবং ইসলামিক ক্যালিগ্রাফির বিবর্তনের ধারাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে। এই প্রদর্শনীটি কেবল একটি প্রাচীন গ্রন্থের প্রদর্শন নয় বরং এটি দর্শনার্থীদের জন্য মধ্যযুগীয় ইসলামিক শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে মুসলিম সভ্যতায় পবিত্র কোরআনের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগ রয়েছে এই শতাব্দী প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি তারই একটি জীবন্ত এবং ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করছে। পবিত্র মক্কায় আগত বিভিন্ন দেশের হাজি এবং পরিব্রাজকরা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখার জন্য প্রতিদিন জাদুঘরটিতে ভিড় জমাচ্ছেন।

জাদুঘরের প্রশাসনিক পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই বিরল নিদর্শনটি ইসলামিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি এবং প্রাচীন মুসলিম সমাজ ব্যবস্থার শিল্পকর্মের উৎকর্ষের এক অনন্য প্রতীক। তারা এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন যাতে এর মূল কাগজ ও স্বর্ণের কারুকাজ দীর্ঘকাল অক্ষুণ্ন থাকে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি ঠিক কোন অঞ্চলে তৈরি করা হয়েছিল এবং মক্কায় আসার আগে এটি কোন কোন রাজপরিবারের সংগ্রহে সংরক্ষিত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক গবেষকরা এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ঐতিহাসিক তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন যা আগামী দিনে উন্মোচিত হতে পারে।

পবিত্র মক্কার এই প্রদর্শনীটি বিশ্বজুড়ে ইসলামী সংস্কৃতির প্রচার এবং প্রসারে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে যা তরুণ প্রজন্মকে তাদের সোনালি অতীত সম্পর্কে সচেতন করতে সাহায্য করবে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ পবিত্র কোরআনের ক্যালিগ্রাফির এই ধারাকে ধরে রাখার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এই শতাব্দী প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটির উন্মোচন ইসলামিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধিকে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে যা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক গবেষকদের পাশাপাশি ইতিহাসবিদরাও এই প্রাচীন লিপির নির্মাণশৈলী ও কালির স্থায়িত্ব দেখে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

banner
Link copied!