রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোরবানির পশুর প্রতি সদয় আচরণ: ইসলাম ও মানবিকতার শিক্ষা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

কোরবানির পশুর প্রতি সদয় আচরণ: ইসলাম ও মানবিকতার শিক্ষা

কোরবানি মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ইবাদত। এর মূল দর্শন হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতা অর্জন করা। ইসলাম যেমন মানুষের প্রতি দয়া, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণের শিক্ষা দেয়, তেমনি পশুপাখির প্রতিও সদয় হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষত কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় তাকে অযথা কষ্ট না দেওয়া শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

পশু কোরবানি ইবাদত, তবে নিষ্ঠুরতা নয়।

ইসলাম প্রাণীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। প্রাণী ধরা, শোয়ানো ও জবাইয়ের কাজগুলো এমনভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পশুর কষ্ট সর্বনিম্ন থাকে। (তিরমিজি, হাদিস: ১৪০৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৮৬০৯)। সাহাবী শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে ইহসান তথা সদয় আচরণ আবশ্যক করেছেন। আর যখন জবাই করবে, তখনও সদয়ভাবে জবাই করবে। তোমরা অবশ্যই ছুরি ধারালো করে নেবে এবং জবাইয়ের পশুকে যথাসম্ভব আরাম দেবে।" (তিরমিজি, হাদিস: ১৪০৯)। এই হাদিসটি কেবল জবাইয়ের নির্দেশ নয়, বরং এটি একটি নৈতিক গাইডলাইন।

‘ইহসান’ অর্থ কোনো কাজ উত্তম ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা। তাই কোরবানির মতো ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে দয়া, কোমলতা ও মানবিকতা বজায় রাখাই ইসলামের দাবি। দুঃখজনকভাবে, অনেক সময়ই দেখা যায় জবাইয়ের পরপরই চামড়া ছাড়ানো, পায়ের রগ কাটা কিংবা বারবার খোঁচাখুঁচি করা হচ্ছে, অথচ তখনও পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। এটি অবলা প্রাণীটির ওপর তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করে, যা সরাসরি ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

ফিকহ শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো মাকরুহ। আল্লামা মাওসিলি (রহ.) তাঁর ‘আল-ইখতিয়ার’ গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করা চরম নিষ্ঠুরতার শামিল। আইন অনুযায়ী, কোরবানির গোশত হারাম না হলেও, এ ধরনের তাড়াহুড়া ও নিষ্ঠুরতা ইবাদতের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে।

কোরবানির পশুর প্রতি সদাচরণই হলো প্রকৃত তাকওয়ার পরিচায়ক। কোরবানি দাতাদের উচিত, পশু জবাইয়ের পরবর্তী সময়ে তাড়াহুড়া পরিহার করে পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরা। ইসলাম আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়, নিষ্ঠুরতার নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং বিশেষ করে ধর্মীয় ইবাদতের প্রতিটি ধাপে যেন এই মানবিকতার প্রতিফলন ঘটে, সেটাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

banner
Link copied!