ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক নগরে আবারও ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। দাপ্তরিক কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চালু হওয়ার পাশাপাশি ইতিমধ্যে খুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। চলতি জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোদের প্রখরতা এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যা জনজীবনকে পুরোপুরি ওষ্ঠাগত করে তুলছে। পিচঢালা পথ দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশের বাতাসকে গনগনে চুলার আঁচের মতো মনে হওয়া এই সময়ে সুস্থতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি হওয়া।শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই।
মানবদেহের প্রায় ৭০ শতাংশ পানি দিয়ে গঠিত হওয়ায় গ্রীষ্মের এই তীব্র খরতাপে ঘামের মাধ্যমে তা দ্রুত বেরিয়ে গেলে শরীর তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি, পেশিতে টান পড়া কিংবা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মানুষের তৃষ্ণা পাওয়ার অর্থ হলো শরীর ইতিমধ্যেই পানিশূন্যতার শিকার হয়েছে, তাই তেষ্টা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বাইরে বের হওয়ার সময় সর্বদা নিজস্ব নিরাপদ পানির বোতল সাথে রাখলে রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত পানীয় পানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহে শরীর থেকে কেবল পানিই বের হয় না, বরং প্রয়োজনীয় লবণ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থও অপসারিত হয়। এই ঘাটতি পূরণে সাধারণ পানির পাশাপাশি প্রকৃতির নিজস্ব কিছু পানীয় যেমন ডাবের পানি পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক মিনারেলের এক দারুণ উৎস হিসেবে নিমিষেই শরীরের সমস্ত ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ঘরেই এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করা সতেজ শরবত কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হলে খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। একই সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা বা পেঁপের মতো রসালো ফল রাখা উচিত, কারণ তরমুজের প্রায় ৯২ শতাংশই পানি যা শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এই সময়ে পোশাক নির্বাচন এবং দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলার দিকেও সর্বাত্মক মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না থাকলে দুপুরের তীব্র রোদে একটানা কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং বাইরে বের হলে ছাতা, ক্যাপ বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। শরীরকে অতিরিক্ত ঘাম থেকে বাঁচাতে এবং বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাঢ় রঙের আঁটসাঁট পোশাকের বদলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরিধান করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যদিকে, এই তীব্র গরমে চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় বিধায় এই পানীয়গুলো সাময়িকভাবে পরিহার করে তাজা ফলের রস বা বেলের শরবত পানের অভ্যাস করা উচিত, যা এই গ্রীষ্মেও শরীরকে রাখবে একদম সতেজ ও প্রাণোচ্ছল।
